শনিবার ২২ জুলাই ২০১৭


শুভেচ্ছা বাণী


আমাদের অর্থনীতি :
25.12.2016

 

সেতু বিশ্বাস, আর.জে, এবিসি রেডিও

সবাইকে বড়দিনের খ্রিস্টীয় শুভেচ্ছা। আমি সেতু বিশ্বাস। আমি এবিসি রেডিও এফ এম ৮৯.২ এ গত তিন বছর ধরে রেডিও জকি হিসেবে কাজ করছি। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই খ্রিস্টীয় দর্পণের বিভাগীয় সম্পাদক ম্যাক্ডোনাল্ড মিঠুন বৈরাগীকে এবং সেই সাথে ধন্যবাদ জানাই পত্রিকার সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খানকে, কারন আমার মত একজন সাধারন মানুষকে তাদের পত্রিকার মাধ্যমে কিছু কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার এই ভিন্নতা অর্থাৎ অন্ন সব ফিচারের পাশাপাশি তারা দেশের তিনটি প্রধান ধর্ম নিয়ে তিনটি আলাদা পাতা প্রকাশ করে। যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য।

আজ বড়দিন, হয়ত সময়ের দীর্ঘতায় বড় নয় কিন্তু গুরুত্তের দিক দিয়ে যদি বলি, তাহলে এই দিনটিই আমার/আমাদের/সমস্ত মানব জাতির মুক্তিদাতার পৃথিবীতে আগমনের দিন। আর আমি বিশেষ আনন্দিত, কারন আজকের এই দিনেই আমাদের প্রভু যীশু খ্রিস্ট কে নিয়ে আমার এই লেখা সনামধন্ন পত্রিকার পাতায় দেখতে পাচ্ছি। আসলে খ্রিস্টীয়ানিটি মানে হচ্ছে সার্বজনীনতা। যেই কারনে সমস্ত মানুষের পাপ নিজের কাধে নিয়ে ক্রুশে প্রান ত্যাগ করলেন যীশু খ্রিস্ট, আর আমাদের করলেন পাপমুক্ত। আজকের এই দিনে আমার অনুরোধ সবার কাছে, আসুন আমরা খ্রিস্ট যীশুর দেখানো পথে হাটি, চলুন তার মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করি পিতা ঈশ্বরের রাজ্যে। যীশু খ্রিস্ট বলেন  ‘আমি পথ, আমিই সত্য, আমিই জিবন’। এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে, সেই অর্থে ঠিক ভিন্ন নয়, বরং আজকের এই বিষয়ের সাথে জড়িত এমন কিছু কথা বলি।

প্রথমত, আমার আশেপাশের অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন যে, যীশু খ্রিস্টকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বিরা কিভাবে দেখেন? এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হচ্ছে, (পূর্বের কথার জের ধরে আমাকে আবারো বলতে হচ্ছে) যীশু খ্রিস্ট ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশের রাস্তা, কারন খ্রিস্ট বলেছেন, ‘আমি পথ, আমিই সত্য, আমিই জিবন’।

দ্বিতীয়ত, যীশু খ্রিস্ট এর জন্ম, যা কিনা কোন জৈবিক প্রক্রিয়ায় হয়নি, কিন্তু হয়েছে সয়ং ঈশ্বরের ঐশ্বরিক শক্তির ফলে, কুমারী মারিয়ার গর্ভে এবং আরাম আয়েশের মধ্যে দিয়ে নয়, বরং শীতের রাতে যীশু খ্রিস্ট জন্মেছিলেন বেথেলহেম শহরের এক গোয়াল ঘরে গরুর যাবপাত্রে। বড়দিন খ্রিস্টীয় ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি বিশেষ আনন্দের দিন। একটি বিষয় না বললেই না, ‘ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সবার’। তাই আমরা সবাই জাতি ধর্ম,বর্ণ ও নির্বিশেষে একসাথে এই পবিত্র দিনের পবিত্রতা রক্ষা করে যীশুর জন্মদিন পালন করব। সবাইকে আরও একবার বড়দিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ‘শুভ বড়দিন’, যীশু খ্রিস্ট যেমন এই পৃথিবীতে আসলেন, তার গুনাবলী এবং পবিত্রতা যেন সবার ভিতর বিরাজ করে। খ্রিস্টীয় দর্পণের শুভকামনা করছি।