রবিবার ২০ অগাস্ট ২০১৭


যারা ধর্ম পালনে ভান করে তারাই ধর্মীয় সংঘাত সৃষ্টি করে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


আমাদের অর্থনীতি :
25.12.2016

 

খ্রিস্টীয় দর্পণ ডেস্ক

‘যারা ধর্ম পালনের ভান করে কিন্তু নিজ ধর্ম বিশ্বাস করে না, তারাই দেশে ধর্মীয় সংঘাতের সৃষ্টি করে,’ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নাগরিক সমাজ আয়োজিত শুভ বড়দিন উদযাপন এবং প্রথম বাঙালী কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, সিএসসি’র সম্মানে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ২২ ডিসেম্বর এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিজয়ের মাসে বড়দিনের আনন্দের সাথে যোগ হলো দেশে প্রথম কার্ডিনাল নিযুক্ত হওয়ার আনন্দ। আমরা চাই সব ধর্মের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মাধ্যমে বাস করুক। ধর্ম যার যার উৎসব সবার’। তিনি আরো বলেন, ‘আমি আগের পোপের সাথে ভাটিকানে সাক্ষাৎ করেছিলাম। কেউ কখনো চিন্তাও করেনি একজন বাঙালী একজন কার্ডিনাল হবেন। আর্চবিশপ প্যাট্রিককে কার্ডিনাল নিযুক্তি করার মাধ্যমে পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশকে সম্মানিত করেছেন। আমরা পোপ ফ্রান্সিসকে ধন্যবাদ জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল খ্রিস্টানদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমি নিজের ধর্ম পালন করি, অন্য ধর্মের মানুষকে সম্মান করি। এক সৃষ্টিকর্তাই সকলকে সৃষ্টি করেছেন, তাই মনে করি মানব ধর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। প্রধানমন্ত্রী কার্ডিনাল প্যাট্রিককে অনুরোধ করে বলেন, ‘আপনি শুধু খ্রিস্টানদের জন্য নয়, দেশের জনগণের কল্যাণেও কাজ করে যাবেন’। কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও তাঁকে সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী সহ সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “পোপ ফ্রান্সিস এদেশ থেকে কার্ডিনাল নিযুক্ত করে প্রান্তিক দেশকে সমর্থন দিয়েছেন, এদেশের দীন মানুষদের সম্মানিত করেছেন’।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করে বলেন, ‘আমরা এদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বাঁচতে চাই। সেই সাথে রাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করার জন্য যথাযথ আইনগত পরিবেশ চাই।’ কার্ডিনাল প্যাট্রিক জানান, তাদের বিভিন্ন চার্চে ও প্রতিষ্ঠানে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ অন্য ধর্মের মানুষ কাজ করে থাকেন। স্বরাষ্ট মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, “আমি কার্ডিনাল প্যাট্রিককে জানি খুব জ্ঞানী একজন মানুষ হিসেবে। তিনি নিজের যোগ্যতার বলেই কার্ডিনাল হয়েছেন। কার্ডিনাল হয়ে তিনি বাংলাদেশকে বর্হিবিশ্বে তুলে ধরেছেন ’।

ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান বলেন, “ক্যাথলিক চার্চ দেশের শিক্ষা-আর্থসামাজিকভাবে উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করি তাদের অবদান অব্যহত রাখবেন।’ তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রথম কার্ডিনাল নিয়োগ দেওয়ায় পোপ ফ্রান্সিসকে ধন্যবাদ জানান।

নাগরিক সংবর্ধনা ও বড়দিন উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশের নবনিযুক্ত কার্ডিনাল প্যাট্রিককে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদাপূর্ণ প্রটোকল দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। ঢাকার সহকারী বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, খ্রিস্টানদের মধ্যে একমাত্র এমপি- জুয়েল আরেং, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, খতিব মাযহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের মহাসচিব ড. প্রনব কুমার বড়ুয়া, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ মহারাজ , কারিতাসের সহকারী নির্বাহী পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) সেবাষ্টিয়ান রোজারিও,  হলিক্রস কলেজের প্রিন্সিপাল সিস্টার শিখা গমেজ সিএসসি, দি মেট্রোপলিটান খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি:, ঢাকার চেয়ারম্যান আগষ্টিন পিউরিফিকেশন, দি খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:, ঢাকার প্রেসিডেন্ট বাবু মার্কুজ গমেজ প্রমূখ। এছাড়া দেশ বরেন্য নেতানেত্রীবৃন্দসহ বিভিন্ন ধর্মের প্রায় এগারো শত মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।