শনিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


সালাম প্রদানে যেসব ভুল করবেন না


আমাদের অর্থনীতি :
30.12.2016

মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী

একজন অপরজনের প্রতি শান্তি কামনা করা, সম্ভাষণ জানানো, স্বাগত জানানো, তাকে বরণ করার জন্য ইসলাম এক অসাধারণ নিয়ম শিখিয়েছে। সেটা হচ্ছে, সালাম বা শান্তি কামনা করা। অন্যদের হাই-হ্যালোর চেয়ে আসলামু আলাইকুম অনেক উত্তম পদ্ধতি। এতে আমরা মহান আল্লাহকে স্মরণ করলাম সেই সঙ্গে একজন ভাই/ বোনের মঙ্গল কামনা করলাম।
মুসলমানদের জন্য একটা মহান আল্লাহ শিখিয়েছেন যে, সব কাজ অর্থবহ করে তোলা। যে শব্দ-বাক্যে উচ্চারণে ব্যবহারে কোনো অর্থ হয় না, সেটা ইসলাম গ্রহণ করে না। ইসলাম একজন মানুষের নিঃষ্কণ্ট চলার সমগ্র উপায় বলে দিয়েছে। আর মানুষ যদি সব কাজ ইসলামমাফিক করে তবে সব কাজই ইবাদাত হিসেবে গণ্য হয়ে যাবে। তো আমরা যদি কাউকে স্বাগত জানাতে, তার কুশল জানার আগে যদি তাকে একটি অর্থবহ শব্দ ব্যবহার করে সম্ভাষণ জানাই তাহলে দোষ কী?
অনেকেই সেই সালামে ভুল করে থাকি। এসব ভুলকে আমরা মোটেই তোয়াক্কে করি না। ইচ্ছে করলেই সে ভুলটা শুধরে নিতে পারি। কয়েকটি ভুল ও শুদ্ধ করার পক্রিয়াÑ
১.অশুদ্ধ উচ্চারণে সালাম দেওয়া : এটি মারাত্মক ভুল কাজ। ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ’ হচ্ছে পুরো সালাম। শুধু আসসালামু আলাইকুম বললেও চলবে। তবে উচ্চারণটা বরাবরই শুদ্ধ হওয়া চাই।
২.ছোটদের প্রতি বড়দের সালাম না দেওয়া : এটিও ভুল প্রচলন। বড় বা বয়স্ক মানুষ ছোটদের সালাম দিতে কোনো বাঁধা নেই। যেমন, শিক্ষক ছাত্রদের এবং বাবা-মা সন্তানদের সালাম দেবেন। আগে সালামকারী বেশি সওয়াব ও মর্যাদার অধিকারী হয়ে থাকেন।
৩. অপরিচিত কাউকে সালাম না দেওয়া : পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। তাই পরিচিত ও মুখ চিনে সালাম দেওয়া গর্হিত ও নিন্দিত কাজ।
৪. সালাম দেওয়ার সময় মাথা ও বুক ঝুঁকে নিচু করা : সালাম দেওয়ার সময় মাথা ও বুক ঝুঁকে নিচু হয়ে সালাম দেওয়া নিষেধ। অনেকে পদস্থ বা বড় কোনো ব্যক্তিকে সালাম দেওয়ার সময় এমন করে থাকে। হাদিসে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এ থেকে বিরত থাকা উচিত।
৫. সালামের উত্তর দিয়ে আবার সালাম : আপনাকে কেউ সালাম দিল, আপনি উত্তর দেওয়ার পর ওই সালামকারীকে আবার সালাম দিলেন। অনেকে এ কাজটি অজ্ঞতাবশত করে থাকেন। উত্তম হলো, কারো সালামের অপেক্ষা না করে নিজেই আগে সালাম দেওয়া। কিন্তু কেউ আগে সালাম দিয়ে ফেললে তার সালামের উত্তর দেওয়াই নিয়ম। তাকে আবার সালাম দিতে হবে না।
৬. কতক্ষণ বসার পর সালাম দেওয়া : সাক্ষাতের শুরুতেই সালাম দেওয়া সুন্নত। কতক্ষণ বসার পর সালাম করা অনুচিত।
৭. সালাম পাঠানোর পদ্ধতি : কারো কাছে সালাম পাঠানোর দরকার হলে আমরা বলি, অমুককে গিয়ে আমার সালাম দেবেন/বলবেন। এভাবে বলা ঠিক নয়। নিয়ম হলো এভাবে বলা, অমুককে আমার পক্ষ থেকে আসসালামু আলাইকুম… বলবেন। তেমনি, সালাম পৌঁছানোর পরও ‘অমুকে আপনাকে সালাম দিয়েছেন’ এ রকম না বলে বলা উচিত, অমুক আপনাকে আসসালামু আলাইকুম… বলেছেন। এক্ষেত্রে সালামের উত্তরদাতাও কেবল প্রেরককে উত্তর দেবেন না। বরং প্রেরক ও বাহক উভয়কে দোয়ায় শরিক করবেন। তিনি এভাবে উত্তর দেবেন, ওয়া আলাইকা ওয়া আলাইহিস সালাম।
৮. ফোনে বা সাক্ষাতে সালামের আগে হ্যালো বা অন্যকিছু বলা : ফোন বা মোবাইল ফোনে সালাম দেওয়ার আগে হ্যালো বা অন্য কোনো কথা বলা ঠিক নয়। আগে সালাম দিয়ে তারপর অন্য কথা বলবেন। হ্যালো বলার দরকার হলে সালাম দেওয়ার পর বলবেন। ফোন ছাড়া সাক্ষাতের বেলায়ও কথাবার্তার আগেই সালাম দেওয়াই সুন্নত। কেননা রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কথাবার্তা বলার আগে সালাম দিতে হয়। [তিরমিজি, হাদিস নং- ২৬৯৯]
৯. অনুষ্ঠান শেষে বা বিয়ের আকদ হওয়ার পর সালাম : অনেক জায়গায় দেখা গেছে, কোনো অনুষ্ঠান- বিশেষত দোয়া বা এ ধরনের কোনো মজলিস শেষ হওয়ার পর সালাম দেন অনেকে। এছাড়া বিয়ের আকদ হওয়ার পর বর উপস্থিত সবাইকে সালাম দেন। বর সালাম না দিতে চাইলে বা ভুলে গেলে অন্যরা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সালাম দাও। না দিলে খারাপ এবং বেয়াদবি মনে করা হয়। এসব কুসংস্কার ও ভুল প্রচলন। সালাম হবে সাক্ষাতের সময়। সুতরাং কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর কারো সঙ্গে দেখা হলে তাকে সালাম করবেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে সালামের প্রথা বর্জন করা উচিত।
১০. বক্তব্যে প্রথমেই সালাম দেওয়া : সাক্ষাতের শুরুতেই সালাম দিয়ে কথাবার্তা শুরু হবেÑ এটিই ইসলামের নিয়ম। কিন্তু আজকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায়, বক্তা বিভিন্ন কথা বলার পর সালাম দেন। যেমন তিনি বলেন, মঞ্চে উপবিষ্ট মান্যবর সভাপতি, অতিথিরা সবাইকে আমার সালাম আসসালামু আলাইকুম। এভাবে সালাম বলা ইসলামি রীতির পরিপন্থি। শ্রোতা ও দর্শকদের মুখোমুখি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সালাম দেওয়া নিয়ম।