মঙ্গলবার ২৪ অক্টোবর ২০১৭


ইমাম গাজ্জালীর উপদেশ অহংকার দূর করতে


আমাদের অর্থনীতি :
06.01.2017

তাশফিক মুহাম্মদ
মানুষ সামান্যতেই অহংকারী হয়ে ওঠে। অল্পতেই নিজেকে অনেক বড় মনে করে। শয়তানের প্ররোচনায় ভুলে যায় আত্মসমালোচনা। অথচ অহংকার পতনের মূল। অহংকারীদের ব্যাপারে সাবধানী বাণী উচ্চারণ করেছেন নবী মুহাম্মদ সা.। তিনি বলেন, ‘একজন মানুষ সর্বদা অহংকার করতে থাকে। অতঃপর একটি সময় আসে তখন তার নাম জাব্বারীনদের খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়, তখন তাকে এমন শাস্তি আক্রান্ত বা গ্রাস করে, যা অহংকারীদের গ্রাস করেছিল।’ তাই প্রতিটি মানুষের উচিতÑ সবসময় নিজেকে ছোট মনে করা। অন্যের তুলনায় নগন্য মনে করা। এ বিষয়ে ইমাম গাজ্জালী রহ. এর সুন্দর উপদেশটি তুলে ধরা হলো। তিনি বলেন, ‘যখন কোনো শিশুকে দেখ, তখন বলবেÑ এই শিশু আল্লাহর কোনো নাফরমানী করে নাই; কিন্তু আমি করেছি। অতএব, সে আমার চেয়ে ভালো। কোনো বয়ঃবৃদ্ধ লোককে দেখে বলবেÑ এই ব্যক্তি আমার আগে থেকেই আল্লাহর বন্দেগী করে আসছে, অতএব, সে অবশ্যই আমার চেয়ে ভালো। যদি কোনো আলেম-জ্ঞানী ব্যক্তিকে দেখ, তাহলে বলবেÑ সে যা কিছু পেয়েছে, আমি তা পাই নাই; সে যে মর্যাদায় পৌঁছেছে, আমি সেখানে পৌঁছাতে পারি নাই; সে বিদ্বান, আমি মূর্খ; তাহলে কি করে আমি তাঁর সমকক্ষ হতে পারি? যদি সে মূর্খ হয়, তাহলে বলবেÑ এই লোকটি নাফরমানী করে থাকলে অজ্ঞতাবশত করেছে, আর আমি আল্লাহর নাফরমানী করেছি জেনে শুনে, সুতরাং আল্লাহর শাস্তি আমার জন্য অধিকতর প্রযোজ্য; আমি জানি না, শেষ পরিণতি কার ভালো হয়; আমার, না তার!
যদি তুমি কোনো কাফের ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টিপাত কর, তাহলে বল; আমি জানি না, হয়তো বা সে মুসলমান হয়ে যাবে এবং তার জীবনাবসান নেক আমলের মধ্য দিয়ে হবে এবং ইসলাম গ্রহণের ওসিলায় তার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। আর আমিÑ খোদা না করুন গোমরাহ হয়ে যেতে পারি, যার ফলে কুফর-শিরক ও পাপে লিপ্ত হয়ে আমার মৃত্যু হতে পারে; সুতরাং পরিণামে সে হয়ত আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে আর আমি শাস্তি ভোগকারীদের দলভুক্ত হয়ে যাব।’উপদেশটি উপলব্ধি করে মেনে চলতে পারলে নিঃসন্দেহে অহংকার অনেকটা কমে যাবে ইনশাআল্লাহ। [সূত্র : বিদায়াতুল হিদায়াহ]