বৃহস্পতিবার ৩০ মার্চ ২০১৭


কালাইয়ে থামছে না কৃষি জমিতে পুকুর খনন


আমাদের অর্থনীতি :
11.01.2017

 

মতলুব হোসেন, জয়পুরহাট : জয়পুরহাটের কালাইয়ে এক শ্রেণীর প্রভাবশালীরা অবাধে কৃষি জমিতে পুকুর খনন করে সেই মাটি দিয়ে ইমারত নির্মাণের জন্য ভরাট করছেন নতুন নতুন কৃষি জমি। ফলে একদিকে কৃষি জমি খনন করে পুকুর তৈরি, অন্যদিকে সেই মাটি দিয়ে ইমারত নির্মাণ করার জন্য কৃষি জমি ভরাট করার প্রবনতা দিন দিন বেড়েই চলছে।

এসব পুকুর খননের উর্বর মাটি বিক্রি করে প্রভাবশালীরা যেমন মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন, অন্যদিকে ফসলের মাঠে জলাবদ্ধতা ও পানি নিস্কাশনের ড্রেন বন্ধ হয়ে নিচু জায়গা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্খাও রয়েছে। সংকট নিরসনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণ একত্রিত হয়ে পুকুর খনন বন্ধ করতে এবং ফসলের জমি রক্ষার্থে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছেন। তবুও থেমে নেই কৃষি জমিতে পুকুর খননের কাজ। বরং ওইসব পুকুরের মাটি দিয়ে আরও নতুন নতুন কৃষি জমি ভরাটও করছেন প্রভাবশালীরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সরকারি নীতিমালা লংঘন করে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না নিয়ে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার হাতিয়র গ্রামের প্রভাবশালীরা  প্রায় ৫৯ বিঘা কৃষি জমিতে গত কয়েক দিন থেকে মাটি খননের মেশিন দ্বারা পুকুর খননের কাজ করছেন। এলাকার এক শ্রেণীর প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের এবং অন্য লোকজনদের কৃষি জমিতে পুকুর খননের চুক্তি নিয়ে ওইসব মাটি দিয়ে ইমারত নির্মাণের জন্য আবার নতুন নতুন কৃষি জমি ভরাট করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়েও নিচ্ছেন।

প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে একদিকে কৃষি জমিতে পুকুর খনন অন্যদিকে তারা ওই পুকুরের মাটি দিয়ে ইমারত নির্মাণের জন্য নতুন নতুন কৃষি জমি ভরাট করায় দিন দিন এলাকার কৃষি জমি কমিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করে এলাকাবাসী। তাদের দাবী, ফসলের মাঠে পুকুর খনন করা হলে একদিকে আশেপাশের জমিতে বৃষ্ঠির পানি জমে ফসলের যেমন ক্ষতি হবে, অন্যদিকে পানি নিস্কাশনের ড্রেন বন্ধ হয়ে অনেক নিচু স্থান প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাছাড়া দিন দিন যেভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খনন এবং ওই মাটি দিয়ে নতুন নতুন কৃষি জমি ভরাট করা হচ্ছে, তাতে করে আগামী ৫ বৎসরের মধ্যে এলাকার অর্ধেক কৃষি জমি কমিয়ে আসবে মনে করেন তারা।

তাই পুকুর খননের কাজ বন্ধ করতে কালাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের জনসাধারণ একত্রিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসসহ জেলার বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন। তবুও থেমে নেই ওইসব পুকুর খনন এবং নতুন নতুন কৃষি জমি ভরাটের কাজ। সম্পাদনা: তারেক