সোমবার ২৯ মে ২০১৭


টেংরাটিলায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ বিপর্যয়


আমাদের অর্থনীতি :
11.01.2017

নুর উদ্দিন, ছাতক (সুনামগঞ্জ) : ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডে বিস্ফোরণের ১২ বছর পরও বিপজ্জনক অবস্থায় বসবাস করছে টেংরাটিলা এলাকারবাসীরা। টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডে বিস্ফোরণে এলাকার ৫টি গ্রামের প্রায় ৬শ ১৬টি পরিবার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার একাধিকবার তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্থ হিসেবে ৬০১টি পরিবারের নাম তালিকা চূড়ান্ত করে। কিন্তু তালিকা চুড়ান্ত হওয়ার পরও আজ পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপুরণ পায়নি ক্ষতিগ্রস্থ এসব পরিবারগুলো। এই পরিবারগুলো অসহায় হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তবে এখনও ক্ষতিপূরণের আশায় পথ চেয়ে বসে আছে ক্ষতিগ্রস্তরা।

গ্যাস ফিল্ড এলাকার বাড়ি-ঘর ও রাস্তা-ঘাটে ফাটল, ক্ষেতের জমি, পুকুর এবং টিউবওয়েল দিয়ে বুদবুদ করে অনবরত গ্যাস বের হয়ে আসছে। মাঝে-মধ্যে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পেলে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসে গ্যাসের ঝাঝালো গন্ধ। গ্যাস ক্ষেত্রের বিস্ফোরণ এলাকায় ৩০ হাজার পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) মিথেনের উপস্থিতি রয়েছে। এ কারণে মারাত্বক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে মানুষের। এখানে উদগিরীত গ্যাস স্থানীয় প্রযুক্তিতে বিপজ্জনকভাবে রান্নাÑবান্নার কাজে ব্যবহার করছে লোকজন। রান্নার কাজে পুকুর ও খাল থেকে পাইপ দিয়ে উদগীরিত গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। উদগীরিত গ্যাস স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রামের অনেকেই রান্নার কাজে গ্যাস ব্যবহার করছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লাকড়ি, খড়-কুটা কিংবা পাতাও নেই। তবু মাটির চুলায় কোনো কিছু ছাড়াই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। প্রথমে দেখলে মনে হবে এই চুলার নিচে গায়েবি কিছু আছে। তা না হলে এমন করে কীভাবে জ্বলছে আগুন। শুধু মাটির চুলা থেকে নয় রাস্তা, পুকুর, খাল-বিল, মাঠ-জমি, টিউবওয়েল এমনকি বসতঘরের ভেতর দিয়ে বুদবুদ করে গ্যাস বের হচ্ছে। আর সামান্য আগুনের আঁচ পেলেই বুদবুদ করে বের হওয়া স্থানে আগুন ধরে যাচ্ছে। আর রাতে মানুষ কুপি জ্বালাতে দিয়াশলাইয়ের ম্যাচে টোকা দিলেই সারা ঘরে আগুন ধরে যায়। ১২ বছর আগে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ছাতক টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডে দুই দফা বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে টেংরাটিলা গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে এভাবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস নষ্ট হচ্ছে। এতে টেংরাটিলা, আজবপুর, গিরিশনগর, কৈয়াজুরি, নূরপুর, সোনাপুর ও শান্তিপুর গ্রাম এখন পরিণত হয়েছে মৃত্যুকূপে। সব সময় বিস্ফোরণ ও আগুন আতঙ্কে থাকতে হয় এসব গ্রামের বাসিন্দাদের। রয়েছেন স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ বিপর্যয়। বিস্ফোরণের আশঙ্কা না থাকলেও গ্যাসফিল্ডের আশপাশ দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত গ্যাস উদগিরণ হচ্ছে। সম্পাদনা: তারেক