বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭


নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হচ্ছে কলকাতা


আমাদের অর্থনীতি :
12.01.2017

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হচ্ছে কলকাতা। সড়কে দু’শ’ মিটার পর পর বসানো হচ্ছে গোপন ক্যামেরা। কলকাতার প্রায় চার হাজার কিলোমিটার রাস্তা ‘ক্যামেরা জালে’ মোড়ানো হবে, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কার্যকর হবে।

ধর্ষণসহ নানা অপরাধ দমনে এ উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। ক্যামেরাগুলো নারীর সুরক্ষার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাতে অফিসের গাড়িতে বাড়ি ফেরার বিষয়েও কিছু প্রস্তাব দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। নোটিশ জারি না করা হলেও বলা হয়েছে, নারী কর্মীদের যেন বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। শুধু কর্মক্ষেত্র নয়, মেয়েদের বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও নারী নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করার কথা বলা হয়েছে। ইন্ডিয়া ব্লুমস পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, যদিও শহরে রাতভর টহল দেয় কলকাতা পুলিশ, তারপরও অপরাধের ঘটন্ াঘটেই যাচ্ছে। সব জায়গায় তাৎক্ষণিকভাবে হাজির হওয়া পুলিশের পক্ষে সম্ভব না। তাই সিসি ক্যামেরাগুলো বসানো হচ্ছে। এগুলো থাকলে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণই নয়, অপরাধীরাও অপরাধ করতে ভয় পাবে। পুলিশের এ পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কলকাতার নাগরিক সমাজ। এছাড়া কলকাতার ফ্রান্স, রাশিয়া, ইতালি, জার্মান ও জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা গত শুক্রবার লালবাজারে কলকাতার পুলিশ হেডকোয়ার্টার গিয়ে পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেখানে দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় নিরাপত্তার প্রশ্নে বিদেশি দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাবও দেওয়া হয়। রাজীব কুমার জানান, কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যে বিদেশি দূতাবাসের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। এর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ডসহ আরও বেশ কয়েকটি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। আগামী ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে কলকাতার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে বরাবরই জঙ্গিদের লক্ষ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রেল স্টেশন। এর মধ্যে স্পর্শকাতর রেল স্টেশন হলো ৩২টি । এই সব রেলস্টেশনে যেকোনো সময় জঙ্গিরা হামলা করতে পারে। তাই কলকাতার পূর্ব ও দক্ষিণ রেলের রেলওয়ে পুলিশ ফোর্সের (আরপিএফ) দুই আইজি বিনোদ কুমার (পূর্ব) এবং এসকে সিনহা (দক্ষিণ-পূর্ব) গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলন করেন। জানান, পশ্চিমবঙ্গের ৩২টি স্পর্শকাতর রেল স্টেশনকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা স্টেশন ছাড়া অন্যান্য স্টেশনের মধ্যে রয়েছে দমদম, বালিগঞ্জ, বিধাননগর, বর্ধমান, দুর্গাপুর, আসানসোল, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, খড়গপুর, মেদিনীপুর, পুরুলিয়া । এ ছাড়া মাওবাদী এলাকার মধ্যে রয়েছে ঝাড়গ্রাম, শালবনি, মনোহরপুর, সরডিহা, ভদুতলা, গইলকেরা ইত্যাদি স্টেশন। এসব স্টেশনে বসানো হচ্ছে সিসিটিভি। কলকাতা মেট্রো বা পাতাল রেলের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি সেখানে নিয়োগ করা হচ্ছে কমান্ডো বাহিনী। সম্পাদনা : ইমরুল শাহেদ