বৃহস্পতিবার ৩০ মার্চ ২০১৭


 বিদায়ী ভাষণে বারাক ওবামা
আগন্তুকদের দেশ যুক্তরাষ্ট্র


আমাদের অর্থনীতি :
12.01.2017

কামরুল আহসান: অবিস্মরণীয় এক ভাষণ দিলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পুরো ভাষণটা প্রায় একটা কবিতার মতো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটাই তার শেষ ভাষণ। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ও বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে এই ভাষণ প্রদান করেন। সাধারণত হোয়াইট হাউসেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিদায়ী ভাষণ দেওয়ার নিয়ম। ওবামা সে নিয়মের ব্যতিক্রম করলেন। ভাষণ দিলেন তার বেড়ে উঠার শহর শিকাগোতে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার ভাষণও তিনি সেখানেই দিয়েছিলেন। ২০ বছর বয়সে এ শহরে তিনি এসেছিলেন নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের

জন্য। চার্চের সামান্য একজন কর্মচারী থেকে দু-দুবারের জন্য বিশ্বের সর্বশক্তিমান দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। যেখান থেকে শুরু করেছিলেন সেখানে এসেই শেষ করলেন।

তিনি আমেরিকার বর্তমান অবস্থা, বৈশ্বিক নীতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। আজ আমেরিকা যেসব বর্ণবাদের মুখোমুখি, বিশেষ করে মুসলিম বিদ্বেষ এবং সাদা ও কালোদের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব সেগুলো তুলে ধরে বলেন, আমেরিকার গণতন্ত্র আজ হুমকির মুখে। ২৪০ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা যে লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন আমরাও আজ সেগুলো নিয়েই লড়াই করছি। আমাদের অবশ্যই সব সময় মনে রাখতে হবে আমেরিকা কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের দেশ নয়। আমেরিকা সবার দেশ। আমেরিকা আগন্তুকদের দেশ। এ দেশের স্বাধীনতার অধিকার সবার জন্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ওবামা তার শাসনামলের আট বছরের  সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, আট বছর ধরে আমি এসব নিয়েই কাজ করেছি। আমি শুধু আমেরিকার গণতন্ত্র নয়, সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকে সমুন্নত করার চেষ্টা করেছি। ওবামা বলেন, আট বছর আগে আমরা একটা মন্দাক্রান্ত অবস্থার মধ্যে পড়েছিলাম। আশা করি, আমরা সেখান থেকে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি করতে পেরেছি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তজার্তিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নিজের সফলতার কথা উল্লেখ করেন ওবামা। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি এবং কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ছিল তার সবচেয়ে বড় সফলতা।

ভাষণের শেষ ভাগে স্ত্রী, কন্যা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেনসহ তার প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ দেন ওবামা। প্রায় ২০ হাজারের মতো দর্শক সরাসরি সামনে বসে এই ভাষণ দেখেন। একপর্যায়ে স্ত্রীর  প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওবামা। বিবিসি