সোমবার ২৪ জুলাই ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » ঢাকা মেডিকেলের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার ভাগ চায় শ্রমিক নেতারা


ঢাকা মেডিকেলের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার ভাগ চায় শ্রমিক নেতারা


আমাদের অর্থনীতি :
12.01.2017

ইসমাঈল হুসাইন ইমু: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১৫ জন কর্মচারীর বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতার সাড়ে ৩ কোটি টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তুলকালাম কা- ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকালে ঢামেক হাসপাতালের কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যালয়ে কর্মচারী নেতারা তাদের ডেকে নিয়ে সাড়ে ৩ কোটি টাকার ভাগ দাবি করা হয়। কিন্তু কর্মচারীরা তাদের দাবি করা টাকার ভাগ দিতে অস্বীকার করায় তাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, কর্মচারী-কর্মকর্তা ও রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আসে।

জানা যায়, ২০০৯ সালে ১৭১ জন কর্মচারী নিয়োগের জন্য সার্কুলার দেওয়া হয়। এরপর ২০১০ সালের ১৪ জানুয়ারি তারা চাকরিতে ২৮৬ যোগদান করেন। কিন্তু যোগদানের পর ৪ মাস পর তাদের বেতন ভাতা বন্ধ থাকে। পরে ২০১৪ সালের ২৭ মে আদালতের নির্দেশে তাদের চাকরি পুনঃবহাল করা হয়। এরপর ২৮৬ কর্মচারী যোগদান করেন। পরে আরও ৫৪ জন কর্মচারী যোগদান করেন। যোগদানকারী ৩১৫ কর্মচারীর চিকিৎসা ভাতা ও বাড়ি ভাড়ার টাকা বন্ধ থাকে। এরপর কর্মচারী নেতাদের সহযোগিতায় আদালতের মাধ্যমে তাদের বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাবদ সাড়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু ৩৮ জন কর্মচারী এখনো চাকরিতে যোগদান করতে পারেননি। ফলে তাদের চাকরিতে বহালের জন্য উচ্চ আদালতে মামলাসহ টাকা বরাদ্দ করার খরচের নামে এই সাড়ে ৩ কোটি টাকার ভাগ হিসেবে ঢামেক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল খালেক, সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলাম, আবু সাঈদসহ নেতারা ৫০ হাজার টাকা করে দাবি করেন। এজন্য মঙ্গলবার ৩১৫ জন কর্মচারীকে সমিতির কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বলেন, তোমাদের টাকা বরাদ্দ করাতে বিভিন্ন দফতরে খরচ হয়েছে। এজন্য প্রত্যেক কর্মচারীর

কাছে ৫০ হাজার টাকা করে দিতে হবে। এসময় কর্মচারীরা তাদেরকে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়ার জন্য রাজি হন। কিন্তু কর্মচারী নেতারা ৫০ হাজার টাকার কম নিবেন না। পরে হাসপাতালের ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মচারী মিনা ও গাইনী ওয়ার্ডের এক কর্মচারীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালের কর্মচারী শহীদুল, আলম ও মিনা জানায়, তাদের ৮৮ হাজার ৭শ টাকা করে বকেয়া ছিল। এই টাকা বরাদ্দের পর এখন ৫০ হাজার টাকা করে দাবি করা হচ্ছে। তাদের ৫০ হাজার করে দেওয়া হলে আমাদের অর্ধেকের কম টাকা থাকবে। আর তারা আমাদের কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা দাবি করছেন। এনিয়ে আগামীকাল কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিলসহ আন্দোলনের ডাক দিবেন বলে তারা দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে ঢামেক ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির নেতা আব্দুল খালেক বলেন, ওই ৩৮ জন কর্মচারী অবৈধ। তারা কোনো টাকা পাবেন না। অবৈধরাতো কত কিছুই বলবে। টাকা দাবি করার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে আছি এ কারণে বিরোধী দলের লোকজন এসব কথা ছড়াচ্ছে। সম্পাদনা: নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী