সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭


এ বছর গার্মেন্ট মালিকদের ১০০০ কোটি টাকা প্রণোদনা বাড়ছে


আমাদের অর্থনীতি :
12.01.2017

 

জাফর আহমদ: এ বছর গার্মেন্ট মালিকদের জন্য দেওয়া সরকারের নগদ অর্থ সহায়তা (প্রণোদনা) ১০০০ কোটি টাকা বাড়ছে। গতবছর তৈরি পোশাক রপ্তানির বিপরীতে মালিকরা নগদ সহায়তা পেয়েছিল ৩,৫০০ কোটি টাকা। এ বছর রপ্তানির বিপরীতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের চেয়ে ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকে উৎসাহিত করতে সরকার প্রতিবছর নগদ সহায়তা দিয়ে থাকে। এ জন্য একটি নীতিমালাও রয়েছে। প্রতিবছর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করে সরকার। রপ্তানিকারকরা তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেই এই নদ প্রণোদনা পেয়ে থাকে। নীতিমালার আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্র্থ বিতরণ করে থাকে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ সালে বিরতণ করা হয়েছিল ৪ হাজার কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিতরণ করা হয়েছিল সাড় তিন হাজার কোটি টাকা এবং চলতি বছরের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রপ্তানির বিপরীতে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি টাকা অর্থবছরের বাকি ছয় মাসে বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি মো. নাসির বলেন,

নতুন বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি যে বছর কম হয় সে বছর প্রণোদনা কমে যায়। এ বছর নতুন বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির হার বাড়বে বলে মনে করছে উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী রপ্তানিমুখী দেশিয় বস্ত্রখাতে শুল্ক ও ডিউটি ড্র-ব্যাক এর পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তা ৪ শতাংশ, বস্ত্র খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অতিরিক্ত সুবিধা বাবদ ৪ শতাংশ, ইউরো অঞ্চলে বস্ত্রখাতে ও  রপ্তানিকারকদের জন্য অতিরিক্ত ৪ শতাংশসহ মোট ৬ শতাংশ, নতুন বাজারে পণ্য রপ্তানি বাবদ ৩ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। ভিন্ন ভিন্ন পাটজাত দ্রব্য রপ্তানিতে যথাক্রমে ২০ শতাংশ, ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ৫ শতাংশ প্রণোদনা প্রদান করা হয়ে থাকে। এ সব পণ্য রপ্তানির সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে থেকে এসব প্রণোদনা তুলে নেয় রপ্তানিকারকরা। ওই ব্যাংক পরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসব প্রণোদনা তুলে নেয়।

চলতি বছর থেকে কোনো তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সাড়ে তিন মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ পোশাক রপ্তানি করবে সে সকল প্রতিষ্ঠানই এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। মূলত দেশে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আহরণকে উৎসাহিত করতেই সরকার এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। সম্পাদনা: নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী