শনিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৭


সরকারি বড় প্রকল্পে ইসলামী ব্যাংকের অলস টাকা শিগগিরই বিনিয়োগ হচ্ছে না


আমাদের অর্থনীতি :
12.01.2017

জাফর আহমদ: ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আরস্তু খান ইসলামী ব্যাংকের অলস টাকা সরকারি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের কথা বললেও শিগগিরই কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। যেসব কারণে লাগানো যাচ্ছে না বলে তারা মনে করছেন তাও চিহ্নিত করেছেন।

সূত্র জানায়, এর কারণ প্রথমত, ইসলামী ব্যাংকের টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজনীয় ইনস্টুমেন্ট নেই। দ্বিতীয়ত, গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি ব্যাংক বিনিয়োগ করে টাকা আটকে যাওয়ায় এ ধরনের বিনিয়োগে ব্যাংকের লাভ-লোকসান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে ইসলামী ব্যাংকের টাকা বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করার কথা বললেও এখনই সম্ভব হচ্ছে না।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে পড়ে আছে বিপুল পরিমাণ অলস অর্থ। টাকার অংকে যা প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। এইসব টাকা জনগণের কাছে থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো  চড়া সুদ দিয়ে সংগ্রহ করেছে। কিন্তু ঠিকই আমানতকারীদের সুদ দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবর্শেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আমানতের ৬৯ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পেরেছে। ইসলামী ব্যাংকগুলোর এর হার আরও কম। তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো

বন্ডের মাধ্যমে সরকারের কাছে বিভিন্ন মেয়াদের বিনিয়োগ করে থাকে। কিন্তু এ বিনিয়োগে সুদের হার সামান্য। তারপরও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত অলস টাকা পড়ে থাকার কারণে ব্যাংকগুলো কম সুদে হলেও বিনিয়োগ করছে। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের এ ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ না থাকার কারণে এসব ব্যাংকের অলস টাকার পরিমাণ আরও বেশি। ইসলামী ব্যাংক বড় হওয়ার কারণে অলস টাকা আরও বেশি। ইসলামী ব্যাংকের টাকা সরাসরি সুদের বিপরীতে বিনিয়োগ করার সুযোগ না থাকার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ টাকা বিনিয়োগ করতে হলে সরকারকে উদ্যোগী হয়েছে ইনস্টুমেন্ট তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু ইসলামী ব্যাংকই নয়, তখন অন্যান্য ইসলামী ব্যাংকগুলোকেও সুযোগের অধীনে আনতে হবে।

অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের টাকা সরাসরি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ি ওড়াল সেতুতে বিনিয়োগের অভিজ্ঞতাও মনে রাখতে হচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংককে। প্রকল্পটিতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক বিনিয়োগ করেছিল। এ টাকা সময়মতো রিকোভারি এখন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু ওই বাণিজ্যিক ব্যাংকটি ঠিকই জনগণের আমানতের টাকা থেকে এ ঋণ দিয়েছিল। ফলে বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংককে সরকারি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের আগে এ বিষয়টিও মনে রাখতে হচ্ছে।    ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকটিতে নতুন পরিচালনা পরিষদ আসার পর ব্যাংকটির চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অলস টাকার বিনিয়োগ করে আমানতকারীর টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে একটি সমালোচিত রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতামুক্ত ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালনা করা। আর্থিক খাতে ব্যাংকটির যে সুনাম রয়েছে তা ধরে রাখা। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কতটুকু তা করতে পারবে তা নির্ভর করবে পরিচালনা পরিষদের পথনকশা বাস্তবায়নের সক্ষমতার উপর। সম্পাদনা: নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী