শুক্রবার ২০ জানুয়ারী ২০১৭


উৎপাদন মৌসুমেও কমেনি লবণের দাম


আমাদের অর্থনীতি :
12.01.2017

হামিদুর রহমান: লবণ উৎপাদনের মৌসুম চলছে এখন তবুও কোনো প্রভাব পড়েনি বাজারে। গতকাল সরজমিন কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি প্যাকেট লবণ বিত্রিু হচ্ছে ৩৮ টাকা। খোলা লবণ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০ থেকে ২২ টাকা করে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময়কে লবণ মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। বিসিকের হিসাবে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে ১৭ লাখ ৫৩ হাজার টন লবণ উৎপাদিত হয়েছিল। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ১২ লাখ ৮২ হাজার টন। এতে বাজারে লবণের দাম বাড়তে থাকে। লবণ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, গতবছর লবণের উৎপাদন কম হওয়ায় এবছরও কমছে না লবণের দাম।

এ বিষয়ে কাওরান বাজার মমতাজ ট্রেডার্সের মো. আব্দুল হান্নান এ প্রতিবেদককে বলেন, লবণের বাজার এখন স্থিতিশীল। তবে এখন বাইরে থেকে নতুন করে কোনো লবণ আমদানি হচ্ছে না। এখন লবণের মৌসুম এই সময়ে মূলত লবণের দাম কম হওয়ার কথা। তবুও কমছে না লবণের দাম। কিছু ব্যবসায়ী লবণ কিনে স্টক করে রাখে। যখন আবহাওয়া খারাপ হয় মৌসুম শেষ হয়ে যায় তখন তারা বাড়তি দামে লবণ বিত্রিু করে।

আরিফ স্টোরের আলী বলেন, মৌসুম হওয়ার শর্তেও গত ২ মাস থেকে এখনও পর্যন্ত লবণের দাম কমছে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে সামনের দিকে লবণের দাম বৃদ্ধি পাবে।

চট্টগ্রামের রাজাপুর সল্ট রিফিনারির সায়েদ মনিরুল ইসলাম আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, এখনো লবণের দাম কমেনি কমারও কোনো সম্ভবনা দেখছি না। সময় সাপেক্ষের কারণে তিনি বেশি কথা বলতে পারেননি।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের ইসলাম এন্ড ব্রাদার্স সল্ট ক্র্যাসিং ইন্ডাসট্রির নুরুল আফসার হেলালি এ প্রতিবেদককে বলেন, এ পর্যন্ত  ৮০ শতাংশের মতো লবণ উৎপাদন কাজ শুরু হয়েছে। আরও ২০ শতাংশের মতো মাঠের কাজ করা হচ্ছে। এ বছর লবণের দাম সামনে কি হবে সেটা নির্ভর করবে আবহাওয়ার উপর। আবহাওয়া যদি ভালো থাকে এভাবে কাজ করতে পারলে আশা করি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

ক্ষদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) হিসাবে, ২০১৫ মৌসুমের সময় লবণ উৎপাদন হয়েছিল ১৫ লাখ ৩০ হাজার টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে, যা ২০১৬ মৌসুমে এসে উৎপাদন বেড়ে ছিল আড়াই লাখ টন বেশি।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের তালিকা মতে, এক বছর আগের তুলনায় এখন লবণের দাম কেজিপ্রতি ৩৩ শতাংশ বেশি। গত বছর লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ লাখ টন।

পূবালী সল্টের চেয়ারম্যান পরিতোষ কান্তি সাহা বলেন, দেশের চাহিদা অনুযায়ী ১৬ লাখ টন লবণ উৎপাদনের জন্য ২২ লাখ টন অপরিশোধিত লবণ দরকার। কিন্তু বিসিকের হিসাবেই উৎপাদন হয়েছে ১৫ লাখ টন। তিনি বলেন, বিশেষ মহলের স্বার্থে লবণ-পরিস্থিতি নিয়ে বিসিক সঠিক তথ্য তুলে ধরে না।