মঙ্গলবার ২৭ জুন ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » মিনি কলাম » দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়নি পদ্মা সেতু নিয়ে : কানাডার আদালতের রায়
    ষড়যন্ত্রকারীদের গালে চপেটাঘাত পড়েছে


দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়নি পদ্মা সেতু নিয়ে : কানাডার আদালতের রায়
ষড়যন্ত্রকারীদের গালে চপেটাঘাত পড়েছে


আমাদের অর্থনীতি :
15.02.2017

ড. হাছান মাহমুদ
বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নের মহাসড়কে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমস্ত ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে, সমস্ত ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে নিজেকে তৃতীয় বিশ্বের সামনে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। এদেশের মানুষের যুগ যুগ ধরে লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। পদ্মা সেতু এই দেশের ষোল কোটি মানুষের যেমন স্বপ্ন, বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের পাঁচ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি। পদ্মা সেতু নির্মাণ করার জন্য আওয়ামী লীগের সরকার, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। এবং বিশ্বব্যাংক এখানে অর্থায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু এদেশের কিছু ষড়যন্ত্রকারী এবং বিশ্বব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে সরকারের বিরুদ্ধে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, সরকারের মন্ত্রী-সচিবদের বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল এবং কানাডার আদালতে বিশ্বব্যাংক একটি মামলা করেছিল। কয়েকদিন আগে সেই মামলার রায় হয়েছে। কানাডার আদালত মামলার রায়ে বলেছে, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির কোনো ষড়যন্ত্র হয়নি। যে অভিযোগ আনা হয়েছে এগুলো মনগড়া, এগুলো গুজব, এগুলো বানোয়াট।
আমরা এতদিন ধরে সরকারের পক্ষ থেকে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে সব কথা বলে আসছিলাম, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি তো নয়ই, দুর্নীতির কোনো ষড়যন্ত্রও হয়নি। আমরা এতদিন ধরে বলে আসছিলাম, পদ্মা সেতু নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা বিএনপি-জামায়াত, কিছু বুদ্ধিজীবী ও ষড়যন্ত্রকারী ছিল। ছিল বিশ্বব্যাংকের কিছু কর্মকর্তারও যোগসাজস। আমি না বলে পারছি না, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাইÑ তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, তাকে আমরা অভিনন্দন জানিয়েছিলাম। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন প্রথমবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তখন তার কাছ থেকে গ্রামীণফোনের লাইসেন্স পেয়েছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাইÑ তিনি এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। আপনারা জানেন, তিনি এবং তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে তার যে ই-মেইল চালাচালি সেটি প্রকাশিত হয়েছে। তার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছেÑ তিনিও এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত।
ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে, সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক আজকে চপেটাঘাত খেয়েছে। আজকে ষড়যন্ত্রকারীরা এই কানাডার আদালতের রায়ের মাধ্যমে তাদের গালে চপেটাঘাত পড়েছে। এই দেশের ষড়যন্ত্রকারীদের গালে চপেটাঘাত পড়েছে। বিশ্বব্যাংকের গালেও চপেটাঘাত পড়েছে। আমরা আদালতের রায়কে অভিনন্দন জানাই, স্বাগত জানাই। সত্য প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারকে আমি অনুরোধ করব যারা ষড়যন্ত্র করেছিলেন, চিহ্নিত ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের আওতায় আনা হোক। কারণ এটি শুধু সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুধু নয়, এটি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুধু নয়, এই দেশের ষোল কোটি মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। সুতরাং যারা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে চিহ্নিত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হোক।
পরিচিতি: প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
সম্পাদনা: আশিক রহমান
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের দাবিতে করা মানববন্ধনে বক্তব্য রেখেছিলেন ড. হাসান মাহমুদ। তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এখানে প্রকাশিত হলো।