শনিবার ২৪ জুন ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত এক হাজার জনের আবেদন
    ৪ বছর ধরে বন্ধ কয়েদি মুক্তি প্রক্রিয়া


যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত এক হাজার জনের আবেদন
৪ বছর ধরে বন্ধ কয়েদি মুক্তি প্রক্রিয়া


আমাদের অর্থনীতি :
16.02.2017

এনামুল হক: সিলেটের মুকিত চৌধুরী। একটি হত্যা মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদ- হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) আছেন। অফিস রাইটার হিসেবে কাজ করেন তিনি। এরই মধ্যে তিনি ২৩ বছর জেল খাটছেন। অনেকদিন ধরেই তিনি মুক্তির প্রহর গুনছেন।

কাশিমপুর কারাগারে-১ আছেন লিটন মিয়া প্রায় ২২ বছরের বেশি সময় জেল খাটছেন তিনি। এখন তিনি মুক্তি লাভের দিন গুনছেন। অফিস রাইটার হিসেবে কাজ করেন তিনি। বন্ধুকে হত্যার অভিযোগে চট্টগ্রামের ফারুক হোসেনের প্রথমে ফাঁসি হয়। পরে আপিল করলে যাবজ্জীবন কারাদ- হয় তার। ২৪ বছর ধরে জেল খাটছেন তিনি। তার আশা ভালো ব্যবহার আর কর্তব্যপরায়ণতার জন্য তিনি মুক্তি পাবেন। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, প্যানাল কোড অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্যানাল কোডের বিধান অনুযায়ী যাবাজ্জীবন কারাদ- মানে ৩০ বছর। রেয়াতসহ সাড়ে ২২ বছর কোনো কয়েদি জেলে থাকলে এ সময়টা ৩০ বছর হিসেবে গণ্য করা হয়।

জানা গেছে, জেল কোডের ৫৬৯ বিধি অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদ- প্রাপ্ত কয়েদিরা সাড়ে ২২ বছর জেল খাটার পর মুক্তির জন্য আবেদন করতে পারেন। সরকার আবেদনকারীর সার্বিক দিক বিবেচনা করে আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন।

কারা সূত্রে জানা গেছে, এই প্রক্রিয়ায় ২০১০ সালে ১৯ আগস্ট সারা দেশের কারাগারগুলো থেকে এক হাজার বন্দি মুক্তি পান। এর মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান ৭৫ জন। এদের বেশির ভাগই হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি। এরপর ২০১১ এবং ২০১২ সালে ৪’শ বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে গত ৪ বছর ধরে যাবজ্জীবন দ- পাওয়া কয়েদিদের মুক্তি দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার কয়েদি যাদের ২২ বছরের বেশি সময় জেল খাটা হয়েছে তারা মুক্তির জন্য আবেদন করেছে। কয়েদি মুক্তির এ আবেদন এখন ফাইল বন্দি হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে।

যাবজ্জীবন ও আমৃত্যু কারাদ- একই বিষয়, নাকি দুই রকমÑ এ নিয়ে জনমনে দেখা দিয়ে দ্বিধা, বিভ্রান্তি, চলছে তুমুল বিতর্ক। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইনজ্ঞদের মাঝেও এ বিষয়ে মতবিরোধ দেখা গেছে।

বাংলাদেশের দ-বিধি ও বিশেষ আইনে যাবজ্জীবন কারাদ-ের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও আমৃত্যু কারাদ-ের কথা স্পষ্ট করে বলা নেই।

দ-বিধির ৫৭ ধারায় বলা আছে, দ-ের মেয়াদসমূহের ভগ্নাংশসমূহ হিসাব করার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদ-কে ত্রিশ বছর কারাদ-ের সমান বলে ধরা হবে। এই ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে এটা শুধুমাত্র কোনো আসামির সাজা কমানোর ক্ষেত্রে ধর্তব্য হবে, কিন্তু সবক্ষেত্রে যাবজ্জীবন বলতে ত্রিশ বছর বলা যাবে না। অর্থাৎ যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত কোনো আসামিকে মৃত্যু পর্যন্ত কারাবরণ করতে হবে, যদি না তার ব্যবহার বা অন্যকিছু বিবেচনায় শাস্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ২২ বছরের মতো জেল খাটা হলেই একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি মুক্তি পান। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। সরকার দ- রেয়াত বা মার্জনা না করলে কোনো অবস্থাতেই সাড়ে ২২ বছর বা ৩০ বছর সাজা খাটা শেষে কারও বেরিয়ে আসা বৈধ হতে পারে না। বর্তমানের রেওয়াজ হলো এ রকম মেয়াদ শেষে কারাগারগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায়। তখন সেখান থেকে অনুমোদন লাভকারীরা ছাড়া পান। গত ৪ বছর ধরে সাজা খাটা বন্দিদের মুক্তি দেওয়া বন্ধ আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি একাধিক বৈঠকও করেছে। কিন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি কমিটি।

একটি সূত্র বলছে এ বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে গ্রিন সিগনাল পাওয়ার অপেক্ষায় আছে মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি। সম্পাদনা: উম্মুল ওয়ারা সুইটি