সোমবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


১ ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস ঘোষণার দাবি নির্মূল কমিটির


আমাদের অর্থনীতি :
16.02.2017

 

উম্মুল ওয়ারা সুইটি: ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ও ১ ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস ঘোষণার দাবি উঠেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভা থেকে। সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশে নানা দিবস পালন করা হয়ে থাকে, অথচ গণহত্যার মতো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিশেষ দিবস পালন করা হয় না। পাশাপাশি স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের ৩০ লাখ শহিদ হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন যারা তাদের সম্মানে ১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালন করা অবশ্যই উচিত।

উল্লেখ্য, এই দাবির এক ঘণ্টার মধ্যেই সংসদে প্রধানমন্ত্রী ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনের উদ্যোগ নিতে বলেন।

গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার কক্ষে অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর ৯৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশের গণহত্যার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি’শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিচারপতি মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানীর সভাপতিত্বে এবং শহিদ কন্যা শমী কায়সারের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ৩০ লাখ শহিদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ তিনি এদেশকে ভালোবাসেন না। দেশে এখন যে জঙ্গি তৎপরতা, সন্ত্রাসী হামলা ও হলিআর্টিজনের মতো ঘটনা চলছে, এগুলোর শেঁকড় হলো জিয়াউর রহমানের। জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা এবং মূল্যবোধকে আঘাত ও ধ্বংস করেছিলেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কি হয়েছিল তার জ¦লন্ত সাক্ষী তিনি। সেই রাতে এবং পরের নয় মাসে যে বিভীষিকাময় অত্যাচার ও গণহত্যা হয়েছে তা সবাই জানে। তাই সেই গণহত্যা বিষয়টাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবটা সমর্থনের বিষয়ে সকলকে কাজ করে যেতে হবে।

এরপরই বিকেলে তিনি অনির্ধারিত আলোচনায় বিষয়টি সংসদে দাবি জানান। আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ হয়েছে। আরও কাজ হবে। মুক্তিযুদ্ধকালীন যে গণহত্যা হয়েছে তা নিয়ে কাজ হয়নি। দেশের মানুষকে জানতে হবে ১৯৭১ সালের দীর্ঘ নয় মাস কি ধরনের গণহত্যা ও নির্যাতন হয়েছিল।

আরও বক্তব্য রাখেন, নর্থ আমেরিকান জুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের কানাডা চাপ্টারের সাবেক সভাপতি অ্যাটর্নি উইলিয়াম স্লোন এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা। সম্পাদনা: এনামুল হক