বৃহস্পতিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা » ইইউ-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি পুনর্বিবেচনা এবং বিজিএমইএকে অর্থসাহায্য বন্ধের আহ্বান


ইইউ-বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি পুনর্বিবেচনা এবং বিজিএমইএকে অর্থসাহায্য বন্ধের আহ্বান


আমাদের অর্থনীতি :
16.02.2017

 

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে

নেদারল্যান্ডভিত্তিক শ্রম অধিকার গ্রুপ ‘ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইন’ বা ‘সিসিসি’ বাংলাদেশে অধিকার বঞ্চিত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্তের জন্য বৈশ্বিক ট্রেড ইউনিয়নকে ইউরোপিয় ইউনিয়নের উপর চাপ সৃষ্টির আহবান রেখেছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তারা এই প্রতিনিধির কাছে প্রেরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এটির বিশদ তুলে ধরেছে। এতে বলা হয়েছেÑ ইউরোপিয় ইউনিয়ন প্রদত্ত ‘এভরিথিং বাট আর্মস’ অর্থাৎ অস্ত্র ছাড়া সবকিছু বাণিজ্যে সুবিধাভোগী বাংলাদেশে প্রথাসিদ্ধ পন্থায় শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার লংঘিত হচ্ছে। যত্রতত্র গ্রেফতার, ইউনিয়ন নেতা ও শ্রমিকদের আটক, তাদের কার্যালয় বন্ধ এবং গণচাকরিচ্যুতিসহ আতঙ্কিত করে রাখা হয়েছে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকার অদূরে শিল্পপল্লী আশুলিয়ায় গত বছর ডিসেম্বরে গার্মেন্ট খাতে মজুরি বৃদ্ধি ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে শ্রমিকদের সপ্তাহকালীন শান্তিপূর্ণ ধর্মঘটে সরকার ইউনিয়ন কর্মীদের নির্বিচারে আক্রমণ করেছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৫ জন ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ (২) ধারায় গ্রেফতার করা ছাড়াও নামবিহীন কয়েকশত শ্রমিকের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি রেখেছে। অথচ গত সপ্তাহে হাইকোর্ট তা অবৈধ ঘোষণা করলেও তার বাস্তবায়ন নেই। গত শুক্রবার বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট গার্মেন্ট ওয়ার্কার ইউনিয়ন ফেডারেশন, সংক্ষেপে ‘বিআইজিইউএফ’-এর শীর্ষ স্থানীয় নয় জনকে গ্রেফতার করে সোমবার জামিনে মুক্তি দিয়েছে। কারখানার মালিকেরা অবৈধভাবে চাকরিচ্যুতি ঘটাচ্ছে এবং এ পর্যন্ত ১৫০০ থেকে ৩০০০ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে। অনেককে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। শ্রমিকদের সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পুলিশি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এমনকি ‘আইএলও’ অনুসৃত কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালাও বাদ যায়নি। তেমনি পরিস্থিতিতে যখন শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কিত নানা পরামর্শ দরকার, সেখানে ইউনিয়ন কার্যালয়ের উপর পুলিশের কড়া নজরদারি বলবৎ রয়েছে, যাতে শ্রমিকরা সহজে যেতে না পারে।

তেমন পরিস্থিতিতে ‘ক্লিন ক্লথস ক্যাম্পেইন’ ইউরোপিয় ইউনিয়নের বাণিজ্য মহাপরিচালককে আইনগত দিক বিবেচনায় শ্রমিকদের মানবাধিকার সমুন্নতের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধসের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের ব্যর্থতার উল্লেখ করে ‘ইউরোপিয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস) ও ইউরোপিয় ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন বা ‘ডেভকো’-কে বাংলাদেশ সরকার ও গার্মেন্ট মালিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন বিজিএমইএ-কে সকল প্রকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা বন্ধের আহবান রেখেছে। ইমেইল: নঁশযধৎর.ঃড়ৎড়হঃড়@মসধরষ.পড়স