সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭


খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠালে দেশে নির্বাচন হবে না : মির্জা ফখরুল


আমাদের অর্থনীতি :
16.02.2017

শাহানুজ্জামান টিটু: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠোনো হলে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর-রুনী মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী, নতুন সিইসি, দেশের উন্নয়ন, ড. ইউনূস প্রসঙ্গ, সন্ত্রাসবাদ, উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ, জাতীয় নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিসহ নানা বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব কথা বলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সহায়ক সরকারের দাবি শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (এনপিপি)।

খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠালে নির্বাচন হবে না

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে যদি জেলে পাঠানো হয়, তাহলে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। জনগণ এ নির্বাচন মেনে নেবে না এবং দেশ প্রেমিক কোনো দল এ নির্বাচনে অংশ নেবে না। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু সেই নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে হবে। সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন।

সিইসি আওয়ামী লীগের সদস্য

নতুন নির্বাচন কমিশনের শপথ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের একটা আশা ও আস্থা ছিল রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগের জায়গা থেকে উঠে এসে তিনি দেশ ও মানুষের জন্য একটি ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, তিনি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব ও ভূমিকা রাখতে পারেননি। তিনি যে সার্চ কমিটি গঠন করছেন এটা নিয়ে আমারা ইতোমধ্যে বলেছি তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। আর সার্চ কমিটি যে নির্বাচন কমিশন আমাদের সামনে দিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে আমরা আগেও বলেছি যে, এই নির্বাচন কমিশনার একজন দলীয় ব্যক্তি। এটা পরিষ্কার করে বলেছি এতে কোনো রাগঢাকের কিছু নেই। ছাত্রজীবনে তিনি এই দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, নেতা ছিলেন। পরবর্তীকালে তার দলীয় সম্পর্কের কারণে তিনি চাকরিও হারিয়েছেন এবং চিহ্নিত একজন আওয়ামী লীগার হিসেবে তার নিজের পরিচয় আছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনি প্রচারণার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এসবের প্রমাণ আছে। আমরা প্রমাণ ছাড়া কোনো কথা বলি না। তাই এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আওয়ামী লীগের দলীয় সদস্য। সেই মানুষটিই প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আজকে শপথ নিয়েছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া

নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বরাবরই অংশ নিয়েছি। এবারও বেশ কয়েকটি উপজেলা নির্বাচনে আমরা যাচ্ছি। এর আগেও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে সরকার তাদের ভোটের ফলাফল তাদের অনুকূলে নিয়েছে। সেটা প্রমাণ হয়েছে। আর এবার  নতুন এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে আমরা যাচ্ছি এটা প্রমাণ করতে যে দলীয় সরকার ও দলীয় আনুগত্যের সিইসির অধীনে কোনো নির্বাচন নিরপেক্ষ হয় না। আর সংসদ নির্বাচনে যাব কী যাব না, সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সেই সময় কোন ধরনের সরকার থাকছে, নির্বাচন কমিশনের কী ভূমিকা থাকে। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনকালীন সরকারের সময় নিরপেক্ষ সরকার চাই। যে সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে, নির্বাচন কমিশন সহায়তা করবে।

ড. ইউনূস বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছেন

মির্জা ফখরুল বলেন, লোকে বলে নোবেল পুরস্কারটি নাকি আপনার (শেখ হাসিনা) প্রাপ্য ছিল। উনি মনে করেন তাই। ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে তথাকথিত শান্তি চুক্তির কারণে প্রধানমন্ত্রীর প্রাপ্য ছিল। কিন্তু ড. ইউনূস পাতা ভাতের মধ্যে ছাই দিয়ে দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ড. ইউনূস আমাদের গর্ব। সারা পৃথিবী তাকে সম্মান জানাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও তাকে বিশেষভাবে সংবর্ধনা জানিয়েছে। জনগণের মৌলিক ও অর্থনৈতিক কিছু বিষয় নিয়ে তিনি কাজ করছেন। এই জন্য সবাই তাকে বাহবা দিচ্ছেন। আর আপনি ব্যক্তিগতভাবে তাকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

আওয়ামী লীগ জেনে শুনে জনগণের অধিকারকে হরণ করেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব, ‘জনগণের অধিকারকে তারা পুরোপুরি লুট করে নিয়ে গেছে। কারণ তারা জনগণ যে মতামত দিবে সেই মতমত কোনো দিনই তাদের পক্ষে যাবে না। তারা অতীতে যা করেছিল এখনো তাই করছে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করে। আমরা গণতন্ত্র ও নির্বাচন চাই। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই। আওয়ামী লীগ যে ফাঁদ পেতেছে ও নীলনকশা তৈরি করেছে সেই নীলনকশার মধ্য দিয়ে কী নির্বাচন হবে? সেই নির্বাচন কখনও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। সেই নির্বাচনে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না।

এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ। সম্পাদনা: নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী