সোমবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭


গোপনে শহীদ মিনার বানিয়েছিলেন জয়নাল আবেদীন খান


আমাদের অর্থনীতি :
16.02.2017

উম্মুল ওয়ারা সুইটি : ভাষা সৈনিক জয়নাল আবেদীন খান তখন তরুণ। সেদিন তিনি পাবনা ছিলেন। ১৯৫২ সালের  একুশে  ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র জনতার উপর গোলাগুলি ও নিহতের খবর শুনে আর বসে থাকতে পারেননি। আন্দোলনের সমর্থনে পাবনায় রাস্তায় নেমেছিলেন। স্থানীয়ভাবে শহীদ মিনার গড়েছেন। বর্তমানে এই ভাষা সৈনিক সাভারে উপজেলার কলাগোয়াতে থাকেন। তিনি বলেন, এখনও সেইসব দিনের কথা স্পষ্ট মনে আছে।

জয়নাল আবেদীন জানান, ৫২ সালে তিনি ছিলেন পাবনায়। ঢাকা থেকে টেলিগ্রাম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওইদিন মিটিং করে পরদিন বিক্ষোভের ডাক দেন। পাবনায়  ধর্মঘট পালন করলাম। মুসলিম লীগের গুন্ডারা বিভিন্ন স্থানে হামলা করেও ঠেকাতে পারেনি। রণেশ মৈত্র, কামাল লোহানিসহ আরো অনেকেই পাবনায় ভাষা আন্দোলন বড় ভূমিকা রেখেছেন। তিনি জানান, গোপনে পাবনা

এডওয়ার্ড কলেজে শহীদ মিনার গড়েন। সেই মডেল এখন নেই। তবে কোন ছবি রাখতে পারেননি।

বায়ান্ন ভাষা আন্দোলনের পর তিনি রাজপথে সব আন্দোলনেই ছিলেন। ১৯৬২ সালে ছাত্র ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। কমিউনিষ্ট পার্টির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

রাজনীতিতে জড়িত হওয়ার প্রসঙ্গে এই ভাষা সৈনিক বলেন, ১৯৪৮ সালে তিনি একবার পাবনার মেলায় গিয়েছিলেন। সেখানেই কমিউনিষ্ট পার্টির এক কমরেডের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনিই রাজনীতিতে নিয়ে আসেন। সে সময় কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ছিল, তাই প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতেন তিনি। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে বলেন, ইতিহাস তো বিকৃত হচ্ছেই। আসলে যেভাবে আন্দোলন হয়েছে তাতে একশ ভাগ সত্য ইতিহাস পাওয়া যাবে না। একটা বাড়ি যদি তিন জন মিলে ঘুরে ঘুরে দেখি, তিন জন এক রকম বক্তব্য দেবে না। তবে সেক্ষেত্রে  শতভাগ না হলেও অন্তত নব্বইভাগ সঠিক রেখে পর্যবেক্ষণগুলো করা উচিত।

এই ভাষা  সৈনিক বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধীরে ধীরে মুক্তস্বাধীন বাংলাদেশের রূপ নিয়েছিল। তিনি বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির কিছুদিন পর একদিন খবর পেলাম, ঢাকায় নতুন একটা ছাত্র সংগঠন হচ্ছে। রাজশাহীর আতাউর ভাই আমাদের যেতে বললেন। যাওয়া হয়নি। তবে পরে ছাত্র ইউনিয়নের প্রথম সম্মেলনে তিনি যান। মোহাম্মদ সুলতান ভাইকে সভাপতি আর ইলিয়াস ভাইকে সেক্রেটারি করে কমিটি হয়েছিল। সম্পাদনা: রাশিদ