সোমবার ২৬ জুন ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » ধর্ষিত কিশোরীকে সালিশে নির্যাতন
    কমলনগরের চর মার্টিন ইউপি চেয়াম্যানের বিরুদ্ধে মামলা


ধর্ষিত কিশোরীকে সালিশে নির্যাতন
কমলনগরের চর মার্টিন ইউপি চেয়াম্যানের বিরুদ্ধে মামলা


আমাদের অর্থনীতি :
16.02.2017

 

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইউছুফ আলীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সালিশ-বৈঠকে ধর্ষিত কিশোরীসহ দুজনকে নির্যাতনের অভিযোগে এ মামলা হয়। গতকাল দুপুরে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি। মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী (মিয়া ভাই) ও গ্রাম পুলিশ মো. রাশেদসহ ৪/৫জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

প্রসঙ্গত, ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইউছুফ আলী (মিয়া ভাই) শালিস-বৈঠকে ধর্ষিত কিশোরীসহ দুইজনকে নির্যাতন করে। নির্যাতনের প্রায় দেড় মাস পর রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে ভাইরাল হয়। এরপর থেকে ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠে। এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও চেয়ারম্যানের ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি। নির্যাতিত ওই দুইজন উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা সম্পর্কে শালিকা-দুলাভাই।

ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে শালিস বৈঠক চলছে। বৈঠক চলাকালে চেয়ারম্যান লাঠি নিয়ে এক যুবককে বেদম পেটায়। এক পর্যায়ে ওই যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় ওই যুবককে এলোপাতাড়ি লাথি দিতে দেখা যায়। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ১৩/১৪ বছরের এক কিশোরীকেও একইভাবে নির্যাতন করতে দেখা গেছে। চেয়ারম্যান মারধর করার আগেও বৈঠকে উপস্থিত আরও এক ব্যক্তি ওই যুবককে পেটাতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, ঘরজামাই মো.আবদুল আলী (কালু), স্ত্রীর ছোট বোন (শালিকাকে) নিয়ে চট্টগ্রাম পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাদের চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এই নিয়ে শালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে শালি-দুলাভাইকে বেদম পিটিয়ে আহত করে। পরে দুলাভাইকে পুলিশে দেওয়া হয়।

চর মার্টিন ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী (মিয়া ভাই) বলেন, অন্তঃসত্তা স্ত্রীকে ফেলে রেখে মাদকসেবী ওই ঘরজামাই শালিকে পালিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খারাপ আচরণ করে। যে কারণে এক-দুইটা চড়-থাপ্পার দিয়েছি।

স্থানীয় হাজিরহাট তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হুমায়ুন বলেন, দুলাভাই কৌশলে শালিকে অপহরণ করে চট্টগ্রাম নিয়ে ধর্ষণ করে। মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মিলেছে। এ ঘটনায় কমলনগর থানায় মামলা করেছে কিশোরীর বাবা। পরে ওই মামলা তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চেয়ারম্যান নির্যাতন করেছে বিষয়ে তৎক্ষণিক কিংবা পরে কেউ অভিযোগ করেনি। পুলিশ বিষয়টি অবগত ছিল না। মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জানতে পেরে আমি বাদি হয়ে মামলা দায়ের করি। সম্পাদনা: এনামুল হক