সোমবার ২৯ মে ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » লিড ২ » প্রমাণ করব দলীয় প্রস্তাবে দায়িত্ব নিলেও আমরা নিরপেক্ষ : সিইসি


প্রমাণ করব দলীয় প্রস্তাবে দায়িত্ব নিলেও আমরা নিরপেক্ষ : সিইসি


আমাদের অর্থনীতি :
16.02.2017

নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী : প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য তিন কমিশনার বলেছেন, এখনই আমাদের প্রতি অনাস্থা নয়, সামালোচনা নয়। যারা সমালোচনা করছেন তারা একটু দেখুক। এরপর বিচার বিশ্লেষণ করুক। কারণ আমরা দলীয় প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নিলেও কোনো দলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করব না। নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। প্রমাণ করে দেবÑ আমরা দলীয় প্রস্তাবে দায়িত্ব নিলেও আমরা নিরপেক্ষ। আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলোচনাকালে তারা এই আশ্বাস দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এমন নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম ও বেগম কবিতা খানম।

কে এম নুরুল হুদা বলেন, আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে শপথ গ্রহণ করেছি। সংবিধান ও সংবিধানের অধীনে প্রণীত আইনকানুন বিধিবিধানের ভিত্তিতে দায়িত্বপালনে অটল এবং আপসহীন থাকব। তিনি বলেন, সাংবিধানিক কাজে সরকারের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। আমরা সাংবিধানিক দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন করব। কাজেই কারো দ্বারা প্রভাবিত হব না। তিনি বলেন, অভিজ্ঞ এবং নিষ্ঠাবান নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে নিয়ে দায়িত্বপালনে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ একটাই, দেশের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া। এজন্য আমরা কাজ করে যাব। আমরা যেকোনো প্রভাব, হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে মোকাবেলা করব। আইন-বিধির বাইরে কোনো কিছুকেই প্রশ্রয় দেব না। বিএনপি জোটসহ সবাইকে নির্বাচনে আনার জন্য যা যা করা দরকার সবই করা হবে। আশা করা হচ্ছে এখন কেউ কেউ সমালোচনা করলেও তিন মাসের মধ্যেই এই সংশয় কেটে যাবে। এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চার নির্বাচন কমিশনার শপথ নিয়েছেন গতকাল। তারা শপথ নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন। আজ থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন করা শুরু করবেন। তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী জোটের কোনো অভিযোগ নেই তবে বিএনপি ও বিএনপি জোট এখনও আস্থা রাখতে পারেনি কমিশনের উপর। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ব্যাপারে তাদের অভিযোগ রয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেন, আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হয়েছি। এই জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে কৃতজ্ঞ। আর যে দল আমার নাম প্রস্তাব করেছে সেই দলকেও ধন্যবাদ। তবে যারা আমার নাম প্রস্তাব করেছেন তাদের কেউ আমার সঙ্গে আগাম কথা বলেননি। এখনতো সবাই শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। শুধু বিএনপি ও ওই জোট ছাড়া। তবে আমি বলবো আপনারা এখনই কমিশনের উপর কোনো অনাস্থা আনবেন না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সবদলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করা। আমি আশা করছি আমরা যে নির্বাচন করব সেই সব নির্বাচনে দেশের সব নিবন্ধিত দল অংশ নেবে। আমি এটাও বলতে চাই, এখানে আমরা কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করলে জনগণও মেনে নেবে না। আমরা এমনভাবে কাজ করবো যাতে জনগণই বলবে আমরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছি। কোনো দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছি না। জনগণের মূল্যায়নেই আমাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ হবে।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, আমি বিএনপির প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে কমিশনার হয়েছি বলে জেনেছি। এটা তারা আমার নাম প্রস্তাব করার আগে আমার সঙ্গে কথা বলেনি। আমি তাদের দলের নাম থেকে নির্বাচিত হলেও বিএনপি জোটের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতে পারব না। কারণ আমরাও ধারণা যে তারা আমাকে তাদের দলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্যও বানায়নি। বরং তারা চেয়েছে যাতে কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করে সেটাই নিশ্চিত হয়। আমি কমিশনে যত দিন দায়িত্ব পালন করবো নিরপেক্ষভাবেই করবো। আমি একা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। পাঁচজনের কমিশন। এই কমিশনের সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমি আমার নিষ্ঠা ও মেধা দিয়ে কাজ করব। আমার অবস্থান থেকে দেশের নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করার জন্য যা যা করার চেষ্টা করবো। আশা করছি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও বিএনপি জোটও অংশ নেবে।

নির্বাচন কমিশনার মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি যে দলের প্রস্তাবে কমিশনার হয়েছি ওই দল আমাকে আগে কিছুই বলেনি। আমি কমিশনার হয়েছি দলীয় পক্ষ থেকে নাম দেওয়ার সুবাদে। তবে আমি তা হলেও দলীয় স্বার্থে কাজ করবো না। আমি দল করি না। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব যথাযথভাবেই পালন করবো। এর আগে কমিশনে দায়িত্বপালন কালে আমার যে অভিজ্ঞতা রয়েছে তাও কাজে লাগাব।

তিনি বলেন, অনেকেই বলছে ৫ জানুয়ারির মতো আগামী সংসদ নির্বাচন হবে। আবার কেউ কেউ বলছে এই কমিশনের অধিনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। যারা এই সব কথা বলছেন তাদের জন্য বলবো এখনই এই ধরনের কথা না বলে বরং সময় ও সুযোগ দুটোই দিতে হবে। আমরা প্রমাণ করে দেবো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করে একটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে। আমরা কোনো দলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে দায়িত্ব নিইনি। আমাকে সব সময় এটাও মনে রাখতে হবে আমি যখন কমিশনে ছিলাম তখন ২০০৮ সালের মতো একটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছিল। সেই নির্বাচনের চেয়ে আমি আরও গ্রহণযোগ্য ও ভাল নির্বাচন করতে চাই। সবাই বলে হুদা কমিশনের নির্বাচনগুলো ভাল হতো। আমি সেই সময়ের চেয়ে আরও ভাল নির্বাচন করার জন্য কাজ করবো।

নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, আমাকে নির্বাচন কমিশনার বানানোর জন্য আওয়ামী লীগ নাম প্রস্তাব করেছে। আমি এই জন্য খুশি ও তাদেরকে ধন্যবাদ দিতে চাই যেÑ আমি দেশের জন্য আরও কিছু করার সুযোগ দিয়েছেন। তবে আমি দলীয়ভাবে প্রস্তাবে হলেও আমাকে এটা মনে রাখতে হবে অতীতে আমি যে দায়িত্ব পালন করেছি তা ছিল স্বাধীন। নিরপেক্ষ। সততার সঙ্গে এবং সাহসিকতার সঙ্গে। আমি এখানেও একইভাবে দায়িত্ব পালন করবো। আমি চেয়ারে বসলে তখন আর অন্য কিছু মনে রাখি না। ওই চেয়ারের মর্যাদা রক্ষা করা আমার দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবো। আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতি ও দুর্বলতা থাকতে পারে কি নাÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে এটা প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। আমি নিরপেক্ষভাবেই দায়িত্ব পালন করবো। ৫ জানুয়ারি সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়নি। আগামী সংসদ নির্বাচন আমরা সব দলের অংশগ্রহণেই করবো। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করার জন্য আমরা কমিশনের সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নেব।  সম্পাদনা: এনামুল হক