শনিবার ২৫ মার্চ ২০১৭


শহিদদের প্রতি আমাদের দায়বোধ


আমাদের অর্থনীতি :
17.03.2017

 

মাহদি হাসান সজিব

স্বাধীনতা হৃদয়ের আকুতি। দিলের তামান্না। রাব্বুল আলামিনের বিশেষ নেয়ামত। মানুষ চায় স্বাধীনতা। চায় স্বাধীনভাবে বাঁচতে, স্বাধীনতার কথা বলতে, স্বাধীন বুলি আওড়াতে। কেবল মানুষই নয়, প্রতিটি প্রাণীরই কামনা এটি। ইসলামের পরিভাষায় এটাই ‘ফিতরাত’। যদিও পরবর্তীতে হয় পরিস্থিতির স্বীকার।

প্রতিটা ধর্মই স্বাধীনতা শেখায়। তবে মানবতার ধর্ম ইসলাম এ ব্যাপারে সবার থেকে এগিয়ে। ইসলাম ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের স্বাধীনতার প্রতি লক্ষ রাখে।  তাদেরও দেয় স্বাধীনতা। যেমনটি দিয়ে থাকে মুসলমানদের। মুক্ত করে মজলুমদের। ধ্বংস করে স্বাধীনতা হরণকারীদের। ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায়, ইসলামের সব যুদ্ধই ছিলো স্বাধীনতার জন্য; মানুষের মুক্তির জন্য।  ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে রেখেছিলো এই ইসলামই কেবল। যার ফলে রচিত হয়েছিলো ফকিরবিদ্রোহ, ফরায়েজি আন্দোলন, রেশমি রুমাল আন্দোলন ও তিতুমীরের বাঁশের কেল্লাসহ অসংখ্য আযাদি আন্দোলনের সোনালি ইতিহাস। যেগুলো স্বপ্ন দেখিয়েছে স্বাধীনতার। সাহস যুগিয়েছে মজলুমদের রুখে দাঁড়াবার; জালিমদের কপাট ছিন্ন করবার।

এরই ধারাবাহিকতায় হয় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। জালিমদের বিরুদ্ধে মজলুমদের যুদ্ধ। স্বাধীনতার ঘোষণায় হয়েছিলো যার পথচলা। দীর্ঘ ন’মাস লড়াই করে লাখো লাখো শহিদদের ত্যাগের বিনিময় রচনা করেছিলাম আমরা স্বাধীনতার এক মহাইতিহাস। মুক্ত করেছিলাম সোনার বাংলাকে। বিশ্বদরবারে নাম লিখিয়েছিলাম স্বাধীনচেতা এক জাতি হিসেবে। লাভ করেছিলাম সবুজের বুকে রক্তলাল নিশান-পতাকা।  আমি আজ গর্বিত। স্বাধীন দেশের স্বাধীন সন্তান, বাংলা মায়ের স্বাধীন ছেলে হিসেবে। আমরাই তো পরাধীনতার শেকল ছিন্নকারী।  মুক্তআকাশে ওড়া পাখি।  কিন্তু আফসোস, আজ অবধি আমরা স্বাধীন রয়েছি না পরাধীন হয়ে বেঁচে আছি! প্রশ্ন জাগে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতে। অন্য জাতির তাবেদারি আজ বুঝি স্বাধীনতা! তাদের আইনকানুন, কৃষ্টিকালচার মেনে নেয়া বুঝি স্বাধীনতা! যাকগে, সে কথা।  যাদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হলাম, রচনা করলাম গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, কী করতে পেরেছি বা পারছি তাদের জন্য এই আমরা। বছরে একদিন শুন্য পায়ে শহিদমিনারে ফুল দেয়া, মিনিটখানেক নীরবতা পালন করা, অনর্থক বক্তৃতামঞ্চ গরম করা, টেলিভিশনে স্বাধীনতার গোটা কয়েক মুভি রিলিজ করা, মুক্তিযোদ্ধাদের দ’একটা টকশো, রাজাকার-রাজাকার স্লোগান করে রাজপথ মিছিলে পরিবেশ তৈরি করা। এসব করে কী তাদের প্রতি শ্রদ্ধা, কর্তব্য আদায় হয়ে যায়!

প্রশ্নটি বিবেকের, প্রশ্নটি প্রকৃত মানব-মানবিকতার। ক’জনে তাদের কৃত ভ্রান্তির ক্ষমা চেয়ে কিংবা পরকালের মর্যাদাবৃদ্ধিতে শান্তির জন্য ঐশীদরবারে বিনয়ের হাত তুলেছি! ক’জনেই বা রেখেছি মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদদের পরিবারের খোঁজখবর! ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ভিড়ে প্রকৃত যোদ্ধা তো আজ চেনাই মুশকিল। যাদের অনেকেই তো এখন অবেহেলিত। দিন কাটে যাদের অনাহারে আজও যাদের জীবনবাজি রেখে স্বাধীন দেশ উপহার দেবার পরও।