সোমবার ২১ অগাস্ট ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » প্রথম পাতা »  ইসির প্রত্যাশা সবদলই আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে
    নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকিতে থাকবে ২৮ রাজনৈতিক দল


 ইসির প্রত্যাশা সবদলই আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে
নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকিতে থাকবে ২৮ রাজনৈতিক দল


আমাদের অর্থনীতি :
21.03.2017

উম্মুল ওয়ারা সুইটি: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে শুধু বিএনপিরই নয় ২৮টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হতে পারে। এসব দল গত দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে খুব শিগগিরই আলোচনায় বসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রমতে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ চায় সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে এবারের সংসদ নির্বাচন হোক। সদ্য বিদায়ী নির্বাচন কমিশনকেও এ ব্যাপারে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছে। একইভাবে নতুন ইসিও চায় আগামী নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে উৎসবমুখর করতে। এরমধ্যে দেশের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে চায় ক্ষমতাসীন জোট। আন্তর্জাতিকভাবে নির্বাচনকে নিয়ে ইতিবাচকভাব উপস্থাপন করতে চাওয়ার জন্যই বিএনপিকে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়াতে চায়। এতে আরপিওর এই আদেশ কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা বলেছেন।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নির্বাচন কমিশন দেশের ৩৯টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধন দেয়। এরমধ্যে নবম জাতীয় সংসদে সবকটি দল অংশ নিলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২টি দল অংশ নেয়। বাকি দলগুলো নির্বাচন বর্জন করে।  ফলে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন (আরপিও) অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে অংশ না দিলে এসব দলের নিবন্ধন বাতিল হবে। নতুন ইসি চায়, এবার সবগুলো রাজনৈতিক দল যেন নির্বাচনে অংশ নেয় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা। ফলে তারা দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবে এবং নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করা হবে এরকম আস্থা তৈরি করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী পরপর দুবার সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিল হবে। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচন পার না হওয়ার আগে আগাম কিছু বলা ঠিক নয়। আইনেই সব বলা রয়েছে, সময় ও পরিস্থিতি বুঝে আইনানুগভাবে কমিশন কাজ করবে বলে জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে দেশের সবগুলো রাজনৈতিক দলই অংশ নেবে। কারণ তারা জনগণের প্রতিনিধি। জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে হলে তাদের অবশ্যই সংসদে আসতে হবে। আমরা অবশ্যই নেতিবাচক কিছু ভাবছি না। আশা করছি সবাই নির্বাচন কমিশনকে আস্থায় নিয়ে নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, জাকের পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, গণফোরাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল) ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকিতে রয়েছে।

উল্লেখ্য, শামসুল হুদার কমিশন দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধনের শর্ত দিয়ে ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দেয়। এর মধ্যে ৩৮টি দল ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে নবম সংসদের ভোটে অংশ নেয়। এরপর ২০০৯ সালে সংসদে নিবন্ধন বিষয়ে আইনি সংশোধনী আনা হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটে অংশ নেয় ১২টি রাজনৈতিক দল। এই দলগুলো হলো- আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনএফ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও গণতন্ত্রী পার্টি। আরপিও অনুযায়ী নিবন্ধন বাঁচাতে হলে আগামী ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ২৮ দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

আরপিও বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৮ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ সংশোধন করে কোনো দল পরপর দুবার নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের নিবন্ধনের অযোগ্য ঘোষণার বিধান সংযোজন করা হয়। তবে পরপর দুবার জাতীয় নির্বাচনে অনুপস্থিত থেকেও নিবন্ধন বাতিল না হওয়ার উদাহরণ রয়েছে।  অবশ্য নিবন্ধন বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের হাতে। শেষ মুহূর্তে কমিশন শুনানির ব্যবস্থা করবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপির মতো একটা দলের নিবন্ধন বাতিল করাটা এত সহজ নয়। তাছাড়া, আগামী নির্বাচনে সরকারকে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের দাবি মানতে বাধ্য করে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। তিনি বলেন, বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হলে অনেক দলেরই নিবন্ধন থাকবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে সময়ের নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আইনে বলা আছে পরপর দুবার কোনো রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে দলটির নিবন্ধন বাতিলের ঝুঁকি থেকে যায়। তবে এ ব্যাপারে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। কেননা, নিবন্ধন বাতিল হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কমিশনের। কোনো দল যদি নিজেই নিজেকে বিলুপ্ত করে বা সরকার কোনো দলকে নিষিদ্ধ করলে সরাসরি কমিশন ওই দলের নিবন্ধন বাতিল করবে। কিন্তু নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কারণে বাতিলের প্রয়োজন হলে কমিশনকে অবশ্যই দলটির কথা ও নির্বাচনে না যাওয়ার যুক্তি শুনতে হবে। সম্পাদনা: এনামুল হক