সোমবার ১ মে ২০১৭


সন্তান আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামত


আমাদের অর্থনীতি :
21.04.2017

 

হাফসা ইসলাম

সাইফ সাহেব বিয়ে করেছেন সাত বছর হলো । এখনো তার ঘরে কোন নতুন অতিথী আসেনি। তার স্ত্রী ও সে নিজেই খুব হতাশায় জীবন যাপন করছে । স্থানীয় মেডিকেল থেকে শুরু করে ঢাকার বড় বড় মেডিকেলের চিকিৎসা নেয়া ইতিমধ্যে শেষ করে ফেলেছেন। কোন ডাক্তার ই ভাল কোন ফলাফল দিতে পারল না । সবাই বলল আপনার বাবা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম । ব্যথার পাহাড় মাথায় নিয়ে একটা সময় নিরাশ হয়ে ঘরে ফেরেন । অনেক সময় বন্ধুরা দুষ্টামি করে বলত, ‘আজ সকালে হাটখুরার মুখ দেখলাম, উফ আজকের দিনটাই বৃথা।

‘এভাবে অনেকেই অনেক কথা বলত, তবু ও আশা ছাড়েননি তিনি আল্লাহর রহমাতের । দোয়া করতে লাগলেন আল্লাহর কাছে, একটি সন্তানের জন্য । একদিন এক ব্যক্তি বললেন: সাহেব আপনি তো অনেক বড় বড় ডাক্তার দেখিয়েছেন, যদি পারেন এখন একটু ছোট খাটো হাতুড়ে ডাক্তার দেখান, আল্লাহ হয়তো মুখ তুলে চাইবে আপনার দিকে । আল্লাহর পরে ভরসা করে তিনি তাই করলেন, আাল্লাহর অশেষ কৃপায়  বিয়ের আট তম বছরে সাইফ সাহেবের ঘর আলোকিত করে জন্ম নিলো ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান ।  দেড় বছর পার হতে না হতেই আরেকটি ছেলে সন্তান ঘরে চলে আসল । এখন তাদের ঘরে সারাক্ষন আনন্দের বন্যা বয়ে চলে । সন্তান হলো ঘরের শোভা ও আল্লাহর অশেষ নিয়ামত । যে ঘরে  সন্তান নেই সেই ঘরটা একটা আলো বাতাসহীন অন্ধকার কুঠিরের মতো। যার সন্তান হয় না তাকে জিজ্ঞেস করুন, সন্তানহারা মাকে জিজ্ঞেস করুন, সন্তান আল্লাহর কত বড় নেয়ামত। নিঃসন্তান মা সন্তানের জন্য কত ব্যাকুল,

সন্তানহারা মা সন্তানের শোকে কতটা ব্যাথিত। আল্লাহ তাআলা বান্দাকে এই নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যাতে বান্দা কৃতজ্ঞ হয়। “আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আধিপত্য আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন, অথবা দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা তাকে করে দেন বন্ধ্যা; তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান। (সূরা শুরা ৪২ : ৪৯-৫০)

কিন্তু এ নেয়ামত হাতে পাওয়ার পর অনেক বান্দা ভুলে যায় যে, সন্তান আল্লাহর পক্ষ হতে তার হাতে সোপর্দকৃত এক আমানত। ফলে আল্লাহর দেখানো পথ রেখে এ নেয়ামতের ব্যবহার করে নিজের খেয়াল-খুশি মত। আমি আমার সন্তানকে এই বানাবো সেই বানাবো, নিজের মত করে গড়ে তুলবো ইত্যাদি।

প্রতিটি মা-বাবাই নেক সন্তান চান। আল্লাহ ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মুখে আমাদের নেক সন্তান প্রার্থনার দুআ শিখিয়েছেন। ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন যারা হবে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর এবং আমাদেরকে করুন মুত্তাকিদের ইমাম (অনুসরণযোগ্য)। (সূরা ফুরকান (২৫) : ৭৪) আর সন্তানের মাঝে ঈমান ও ইসলামকে গ্রহণ করার এবং ভাল ও নেক হওয়ার স্বভাবজাত যোগ্যতা দিয়েই আল্লাহ দুনিয়াতে পাঠান। ইরশাদ হয়েছে, অর্থ: প্রতিটি শিশুই ফিতরতের (ঈমান ও ইসলামকে গ্রহণ করার যোগ্যতার) উপর জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু বাবা-মা তাকে খৃষ্টান, অগ্নিপূজক বা ইহুদি বানায়। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৬৫৮)