মঙ্গলবার ২৭ জুন ২০১৭


সিহাহ সিত্তার শেষ গ্রন্থ সুনানু ইবনে মাজাহ


আমাদের অর্থনীতি :
21.04.2017

 

মুফতী আজীজুল্লাহ আশরাফ

হিজরি তৃতীয় শতক ছিল হাদীস সংকলনের স্বর্ণযুগ। কুতুবুস সিত্তাহ তথা হাদিসের শ্রেষ্ঠ ছয়গ্রন্থের সবগুলুই এ শতকে সংকলিত হয়েছে। আর এ কুতুবুস সিত্তার অন্যতম একটি গ্রন্থ হ’ল ‘সুনানু ইবনি মাজাহ’। আলোচ্য নিবন্ধে ইমাম ইবনু মাজাহ (রহঃ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং ইলমে হাদীসে তাঁর অনন্য সংকলন সুনানে ইবনু মাজাহ সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করছি ইনশাআল্লাহ।

মহান গ্রন্থকার ‘ইবনে মাজাহ’ নামে পরিচিত হলেও তার নাম হচ্ছে ‘মুহাম্মাদ‘। পিতা ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল্লাহর উপাধি ছিল ‘মাজাহ’। (যা ফার্সী শব্দ ‘মাহ-চাহ’ এর এ্যারাবিকরূপ। অর্থ ‘ ছোটচাঁদ’। ) তবে অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে ‘মাজাহ’ তাঁর মায়ের উপাধী।  বর্তমান ইরানের ‘কাযভীন’ অঞ্চলের ‘রাব’ঈ’ গোত্রে ২০৯ হিজরী/৮২৪ খৃষ্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এবং এ কারণে তাকে ‘কাযভীনী’ ও ‘রাব’ঈ’ বলা হয়। তৎকালে কাযভীনের বিদ্যালয়গুলো বড় বড় আলেমদের দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল। তাই সুদীর্ঘ ২২ বৎসর বয়স পর্যন্ত নিজ এলাকাতেই পড়াশোনার সুযোগ পান ইমাম ইবনে মাজাহ। এরপর উচ্চশিক্ষা অর্জনের নিমিত্তে ভ্রমন করেন আরব-আজমের বহু রাষ্ট্র।  এভাবে কাটান আরো পনের বছর। এবং হয়ে ওঠেন -ইবনে খাল্লিকানের ভাষায়, হাদিসের একজন ইমাম, এবং তদসংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিদ্যার বিজ্ঞ একজন পন্ডিত। এছাড়া আল কোরআনের তাফসীর ও ইতিহাস শাস্ত্রেও তার দক্ষতার হাত ছিল অত্যন্ত মজবুত। উভয় শাস্ত্রে তার কালজয়ী রচনাও রয়েছে। এসব রচনার মাঝে সবচে প্রসিদ্ধ ও সর্বজন পরিচিত গ্রন্থ হল ‘সুনানু ইবনি মাজাহ’। কুরআনুল কারীমের পর বিশ্ববুকে হাদিসের শ্রেষ্ঠ ছয় গ্রন্থের ছষ্ঠতে হল তার অন্তর্ভূক্তি। লক্ষ লক্ষ হাদিস থেকে বাছাই করে শুধুমাত্র চার হাজার হাদিস দিয়েই সমাপ্ত করা হয়েছে সংকলনটি। পুনরুক্তি বর্জন, হাদিসের সংক্ষেপন ও বিন্যাস সৌন্দর্যের বিচারে তার অনুরূপ দ্বিতীয় আরেকটি মিলানো ভার। তদানিন্তন সময়ের শ্রেষ্ঠ একজন হাদিসবেত্তা ইমাম আবু যুর’আহ গ্রন্থটি হাতে পেয়ে বলেছিলেন: ‘গ্রন্থটি সবার হাতে থাকা উচিত। আর যখন তা তাদের নিকট পৌঁছবে, হাদিসের বহু গ্রন্থ পরিত্যাজ্য হয়ে পড়বে।’

ইমাম ইবনে মাজাহ তার সুনান গ্রন্থটির অধ্যায় বিন্যাসে একটু ভিন্নতা এনেছেন। তিনি অন্যান্য সুনানের মত তহারাত তথা পাক-পবিত্রতার অধ্যায় দিয়ে গ্রন্থ সূচনার পরিবর্তে সুন্নতের অনুস্বরণ ও বিদআত পরিবর্জনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন, এবং তদসংশ্লিষ্ট অধ্যায় দিয়ে গ্রন্থের সূচনা করেছেন।  মুহাদ্দিসদের মতে তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, মুমিনের যাবতীয় কার্যাদি চাই সেটা পবিত্রতা অর্জনের ব্যপার হোক অথবা জানাযায় অংশগ্রহন, আল্লাহ তায়ালার নিকট তখনি গ্রহণীয় হবে যখন তা বিদআতমুক্ত ও সুন্নাহসম্মত হবে। এরপর এনেছেন রাসূলের (সা.) সাহাবাদের মর্যাদা ও খুলাফায়ে রাশেদার অনুস্বরণ-প্রয়োজনীয়তা সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ। প্রমাণ করেছেন যে, তাদের অনুস্বরণ সুন্নাহর-ই অনুস্বরণ; ভিন্নপথ অবলম্বনের ক্ষেত্রে সেটা বিদআত হিসেবে পরিগণিত হবে।  এরপর ভিন্নপথে চলা কতিপয় ভ্রষ্ট দলের আলোচনা এনে অবশিষ্ট কিতাব সুনান রীতির ফিকহী তারতীবেই সমাপ্ত করেছেন।