বুধবার ২২ নভেম্বর ২০১৭


‘বাবা-মা তোমার জান্নাত বা জাহান্নাম’


আমাদের অর্থনীতি :
19.05.2017

মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ মাসউদ

যুগের উন্নতি যেমন ঘটছে, তেমনি অধপতনও দিনদিন বাড়ছে।  সভ্যতা-সংস্কৃতি তো গোল্লায়ই গেছে একরকম। সেই সোনালি শিষ্টাচার নেই, যা ছিলো রাসুল (সা.)-এর সময়কালে।  ইদানিং জনজীবনে প্রবলভাবে বেড়ে যাচ্ছে একটি অন্যতম করুণ চিত্র।  বাসা, বাড়ি, পথঘাটে সর্বত্র অপমানিত, লাঞ্চিত হচ্ছেন আমাদের বাবা-মা। বড় যতেœ আমাদের লালন পালন করাটা যদি তাদের অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে এমন শিক্ষিত ও সভ্য সমাজকে সিকোয় তোলা উচিত। আজকাল বহু বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পার করতে হচ্ছে জীবনের দুর্বিসহ অধ্যায়টি। কাজটি দূরের কেউ নয়, নিজে না খেয়ে না পরে যেই সন্তানকে কোলে পিঠে বড় করে তুলেছেন তারা, সেই আদুরে সন্তানই বড় আনন্দে দিব্যি এসব করে যাচ্ছে। বাবা-মাকে ঘর থেকে বের করে দিচ্ছে রোজ।  সম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি, উচ্চশিক্ষা আমাদের আজ মূর্খ ও গেঁয়ো মায়ের সন্তান পরিচয় দিতে দ্বিধান্বিত করছে রীতিমতো। অথচ ইসলাম আল্লাহর পরে মর্যাদায় মায়ের আসন রেখেছে।  এরশাদ হচ্ছে, ‘আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত কোরো না এবং পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।’ (সুরা বনী ইসরাইল : ২৩)।  আয়াতটির ব্যাখ্যায় ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা পিতামাতার সম্মান এবং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাকে নিজের ইবাদতের সমান বর্ণনা করে সন্তানের ওপর তা আবশ্যকীয় করেছেন।’ (তাফসিরে কুরতুবি : ৫/৫৭৫)। ইসলামে আল্লাহর ইবাদতের পর পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করা যেমন অতীব জরুরি, তেমনি পিতামাতার কৃতজ্ঞতা আদায় করাও সন্তানের জন্য আবশ্যক।

আল্লাহর কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আমি মানুষকে তাদের পিতামাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি।’ (সূরা লোকমান : ১৪)। উপর্যুক্ত আলোচনার মাধ্যমে এ কথা স্পষ্ট হয়, পিতামাতার আনুগত্য এবং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা সন্তানের জন্য একান্ত অপরিহার্য। তাদের আনুগত্য ও সেবাযতœ জান্নাতে নিয়ে যায় এবং তাদের সঙ্গে অসদ্বাচরণ ও তাদের অসন্তুষ্টি জাহান্নামে পৌঁছে দেয়। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘সন্তানের ওপর পিতামাতার দায়িত্ব কী?’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘তারা উভয়েই তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।’ (ইবনে মাজাহ : ২৬০)।  এমনকি যদি কারো পিতামাতা অমুসলিম হয়, তাহলে তাদের সঙ্গেও সদ্ব্যবহার করার জন্যও ইসলাম জোর নির্দেশ দিয়েছে। হজরত আসমা বিনতে আবুবকর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার মা মুশরিক অবস্থায় আমার কাছে এলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার মা আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন, আমি কি তার সঙ্গে সদাচরণ করতে পারবো?’ রাসুল (সা.) বললেন, কেনো নয়, অবশ্যই তার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।’ (বোখারি শরিফ : ৮৮৪)।  ইসলাম পিতামাতার আনুগত্য ও সদ্ব্যবহার সর্বাবস্থায় সন্তানের ওপর ওয়াজিব করেছে। যখন পিতামাতা বার্ধক্যে উপনীত হন, তখন তারা সন্তানের বেশি মুখাপেক্ষী হন। তখন যদি সন্তানের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি সামান্যও বিমুখতা প্রকাশ পায়, তা তাদের অন্তরে বড় দাগ কাটে।  সেজন্য এরশাদ হচ্ছে, ‘তাদের একজন বা উভয়ে তোমাদের জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের উহ শব্দটিও বোলো না। তাদের ধমকও দিও না।  বরং তাঁদের সঙ্গে সম্মানসূচক শব্দে কথা বলো।

তাদের সামনে ভালোবাসা ও নম্রভাবে মাথা নত করে থাকো। সঙ্গে প্রার্থনা করো, প্রতিপালক হে! তাদের প্রতি দয়া করো, যেমন তারা আমায় শৈশবে বড় যতেœ লালনপালন করেছেন।’ (সুরা বনী ইসরাইল : ২৩/২৪)। দেওবন্দ, ভারত