রবিবার ২৩ জুলাই ২০১৭


ভালোবেসে কুরআন পাঠ


আমাদের অর্থনীতি :
19.05.2017

রায়হান রাশেদ

বই সভ্য জাতির জীবনের আরশি। মন ও জীবনের নিরাময়। সভ্য মানুষ বইকে ভালোবেসে বই পড়ে বেঁচে থাকে। বই অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দর্পন। বইয়ের হরফ শুদ্ধ আলোর দীপক। যে আলোয় উদ্ভাসিত হয় সমাজ ও সমাজের মানুষ। যে আলোয় সূর্যের মতো দেখা যাবে আগামি দিনের পথ। যে আলোয় নির্মাণ হবে আদর্শ, মানবতাধারী এবং ভালোবাসার মানুষ। তবে সে বই হতে হবে ওহি উৎসারিত এবং ওহির আলোয় জ্বলমলে। অধিকন্তু বই শব্দটি এসেছে ওহি থেকে। ওহি থেকে বহি। তারপর বই। মানব সভ্যতার ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো আল কোরআন। তার ভাষা, বর্ণ, বর্ণনা, সাহিত্য, উপমা, কাব্য ও গদ্যরীতি, রসবোধ পৃথিবীর সব গ্রন্থকে ছাড়িয়ে ছাপিয়ে। জগতের এ বইয়ের নির্মাতা স্বয়ং আল্লাহ। এবং তা অবতীর্ণও হয়েছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মহা মানবের ওপর।  কোরআন একটি গতিশীল ও কেয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী মুজেযা। অন্যান্য সমস্ত নবি রাসুলগণের মুজেযা এবং তাঁদের ওপর নাযিলকৃত কিতাব বা গ্রন্থ তাদের জীবন পর্যন্ত  কার্যকর ও বিদ্যমান ছিল। কিংবা অন্য নবী আগমনের পূর্ব পর্যন্ত ছিল । কিন্তু হুজুর সা. এর ওপর নাযিলকৃত মুজেযা কোরআনুল কারীম তাঁর মৃত্যুর পরও পূর্বের ন্যায় আপন বৈশিষ্ট্যে বিদ্যমান রয়েছে। এবং জগত টিকে থাকা পর্যন্ত সমহিমায় অতোজ্জল থাকবে। এবং মানুষকে হেদায়াতের পথ দেখাবে। রাসুল সা. বলেন- ‘আমি তোমাদের মাঝে এমন দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে থাকলে তোমরা কোনোদিন পথহারা হবে না। আর তা হলো আল্লাহর কোরআন এবং তাঁর নবির সুন্নত।’ ইমাম মালেক, মুয়াত্তা- ১৫৯৪।   কোরআন ও কোরআনের নির্দেশনাবলী সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। পৃথিবীর পাড়া মহল্লায় এ যাবত যে সমস্ত বই এসেছে সব ছিল কোনো পাড়া মহল্লা, সমাজ, শহর কিংবা দেশব্যাপি আল্লাহর নবিদের ওপর যে কিতাব নাযিল হয়েছিল সে গুলোও ছিল জাতি ও গোত্র বিশেষ। একমাত্র মোহম্মদ সা. এর ওপর অবতীর্ণ গ্রন্থ পুরো বিশ্ববাসীর জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। মাটির পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য পথ নির্দেশক হিসেবে ধরায় সদারিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘পরম করুণাময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফায়সালা গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হয়।” ফুরকান ০১।  কুরআন কারীমে পূর্ববর্তী উম্মত, তাদের শরীয়ত, ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঘটনা এবং জীবন ধারণ এত পরিস্কারভাবে উল্লেখ  করা হয়েছে যে, সে যুগের ইহুদী-খৃস্টানদের প-িতগণ, আসমানী কিবতাসমূহের বিজ্ঞ লোক ততটা অবগত ছিল না। এবং কোরআনে বর্ণিত সব কিছুই  সত্য ও যথার্থ। জগতের ইতিহাস পাড়ায় আলোড়িত ও আলোচিত ঘটনা; কাহাফবাসী থেকে শুরু করে ইবরাহিম আ. এর কা’বা নির্মাণ, মূসা আ. এর নীল নদ পাড়ি, তার জাতির মান্না সালআ খাবার, ঈসা আ. এর পবিত্র মাতার কাহিনী এবং এমন বহু ঘটনা কোরআনে ষ্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে। যা পৃথিবী ইতিহাসে  উজ্জ্বল আলোকিত দিনের মতো স্বীকৃত। কোরআনের মহত্ব বুঝে কোরআনকে ভালোবেসে কোরআনের পাঠ জীবনে ধারণ করে আমাদের জীবন হোক আলোকিত ও আন্দোলিত। কোরআনের নির্ভেজাল আলো ছড়িয়ে দিতে আমরা হয় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ও আপোষহীন।