রবিবার ২৩ জুলাই ২০১৭


গুরুত্ব ততক্ষণ গণমাধ্যমে যতক্ষণ


আমাদের অর্থনীতি :
20.05.2017

 

মিঠুন মিয়া

গণমাধ্যমে কোনো ইস্যু যতক্ষণ স্থায়ী আমাদের আলোচনাও ঠিক ততক্ষণই। কোনো বিষয় গণমাধ্যমে থেকে হারিয়ে গেলে সেটি আমাদের মনোজগত থেকেও বিলীন হয়ে যায়। অর্থাৎ গণমাধ্যম না জাগালে আমরা জাগি না। ক্যামেরার চোখ যতক্ষণ দেখে, আমরাও ঠিক ততক্ষণই দেখি। এদিক থেকে জনগণের আলোচ্যসূচি নির্ধারণে গণমাধ্যম এক বিশাল শক্তির অধিকারী। বেন বাগডিকিয়ান এর মতে ‘গণমাধ্যম যা সম্প্রচার করে না, জগতে তা সংঘটিত হয় না। গণমাধ্যম এখন বাস্তবতার প্রতিফলন নয়, বরং বাস্তবতার উৎস।’ অর্থাৎ নিজ চোখে দেখার পরও গণমাধ্যমের ক্যামেরার চোখে না দেখা পর্যন্ত সে বিষয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। বর্তমানে সমাজের ঘটনা কিংবা ইস্যুর শেষ নেই। প্রতিনিয়ত ঘটছে অহরহ ঘটনা। রয়েছে নানা বিষয়। একটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি ঘটনা ঘটছে। গণমাধ্যমও ঠিক সেই ভাবেই তাদের আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করছে। গুরুত্ব ভেদে কোনো ইস্যু গণমাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী হয়। আবার কোনো ইস্যু দ্রুত বিলীন হয়ে যায়।

গণমাধ্যমের আলোচ্যসূচির বাইরে গিয়ে অন্য কোনো ইস্যু বা ঘটনাকে না দেখার প্রবণতা কাম্য নয়। অনেক সমস্যাই গণমাধ্যমে না আসা পর্যন্ত তার প্রকৃত সমাধান মিলে না। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের অবহিত করলেই তারা নড়েচড়ে বসেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, গণমাধ্যমে কেবল আলোচনাকালেই সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়, সংশ্লিষ্টরা ব্যবস্থা নেন। কিন্তু গণমাধ্যমে আলোচনা শেষ হলে সমস্যা সমাধানের তৎপরতারও ইতি ঘটে। গণমাধ্যম আমাদের পথ দেখাচ্ছে, তারপরই আমরা সে পথেই হাঁটছি। কিন্তু আমরা নিজ থেকে সে পথ দেখছি না এবং হাঁটছি না। এটি কোনো সমাজের জন্য কাম্য নয়। খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতিসহ অনেক ঘটনাই একসময় গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছিল। সেগুলো সঠিক সমাধান হয়নি, কিন্তু  হারিয়ে গেছে। কারণ সেগুলো গণমাধ্যমের আলোচ্যসূচিতে নেই। আসুন কেবল গণমাধ্যমের দিকে চেয়ে নয়, সমাজ বাস্তবতায় অনেক সমস্যাই আমরা সহজেই সমাধান করতে পারি। আমরা নিজেরাই লিপ্ত হই গণমাধ্যমের ভূমিকায়।

লেখক: প্রভাষক, গণযোগাযোগ ও  সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পাদনা: আশিক রহমান