বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭


বাঁচার লড়াইয়ে জলমহালে মাছ ধরা উন্মুক্ত চায় হাওরবাসী


আমাদের অর্থনীতি :
20.05.2017

নুর উদ্দিন, ছাতক (সুনামগঞ্জ): সুনামগঞ্জের ফসল হারা কৃষকরা আগামী চৈত্র মাস পর্যন্ত খেয়ে বেঁচে থাকতে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসাবে জলমহালগুলোতে মাছ ধরা উন্মুক্ত রাখার দাবি উঠেছে। সবকয়টি হাওরের একমাত্র ফসল ডুবে যাওয়ায় জেলে কৃষক মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ পরিবার ভীষণ অভাব পীড়িত হয়েছে। আগামী দিনগুলো কীভাবে খেয়ে বেঁচে থাকবে এই চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। সরকারের দেওয়া ৩০ কেজি চাল এবং ৫০০ টাকা পাচ্ছেন দেড় লাখ মানুষ। সহায়তা প্রাপ্তরা মনে করছেন এই সহায়তা একটি বড় কৃষক পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়। এ কারণে হাওর পাড়ের জেলে কৃষকসহ সকলেই দাবি তুলেছেন হাওরাঞ্চলের মানুষের স্থানান্তর হওয়া ঠেকাতে জলমহাল উন্মুক্ত করা ছাড়া বিকল্প নেই। সুনামগঞ্জে ছোট-বড় জলমহাল রয়েছে ১০৪৩ টি। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হাওর ইনফাস্ট্রাকচার লাইভলিহুড ইমপ্রোভমেন্ট প্রজেক্ট (হিলিফ)’র আওতায় ২৯৭ জলমহাল, হাওর ফ্লাড লাইভলিহুড ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (হিমলিফ)’র আওতায় ৪২ টি জলমহাল, উন্নয়ন স্কীমের আওতায় মন্ত্রণালয় থেকে ইজারা হয়েছে ৬০ টি জলমহাল । আদালতে মামলায় জড়িত রয়েছে ২৮ টি, ভরাট হওয়াসহ নানা কারণে ইজারা হয় না ১৯৮ টি। বাকী ৪১৮ টি জলমহালের মধ্যে ৪৪ টি মন্ত্রণালয় থেকে ইজারা প্রক্রিয়াধীন। ৭৪ টি জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা প্রক্রিয়াধীন। ৩৫ টি জলমহালের দরপত্র এ মাসেই গ্রহণ করা হয়েছে। বাকীগুলো হয় ইজারা দেওয়া, না হয় প্রক্রিয়াধীন। ২০ একরের নিচের জলমহাল উপজেলা প্রশাসন এবং ২০ একরের উপরের হলে জেলা প্রশাসন এবং উন্নয়ন স্কীমের জলমহালগুলো মন্ত্রণালয় থেকে ইজারা দেওয়া হয়। গত বছর জলমহালগুলো ইজারা প্রদান করে প্রায় ১৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছিল। করচার হাওরপাড়ের উপজেলা বিশ্বম্ভরপুরের রূপসা নদীর পাড়ের গ্রাম রাধানগর, বিশ্বম্ভরপুর, বাহাদরপুর, রায়পুর, গাগটিয়া, ফুলভরি, কাটাখালি, নয়াহাটি মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৬’শ জেলে কৃষক পরিবারের বাস। এদের সকলেই ছোট-বড় কৃষক। হাওরডুবিতে এই গ্রামগুলোর কোন কৃষক এক ছটাক ধানও ঘরে তুলতে পারেননি। এই গ্রামগুলোর বাসিন্দারা বললেন, সরকারি ত্রাণ সহায়তা আমরা কেউ পাচ্ছি, কেউ পাচ্ছি না। ত্রাণ নিয়ে রীতিমত কাড়াকাড়ি। ধান ডুবে যাবার পর গরু-গৃহপালিত পশু বিক্রি করে চলেছি আমরা। এখন গ্রামের পাশের নদী ও হাওরে মাছ ধরছি। শুনেছি নদী ও হাওর ইজারা হয়ে যাচ্ছে। নদী ও হাওর ইজারা হলে আমাদের খেয়ে বেঁচে থাকার কোন অবলম্বনই থাকবে না। বাহাদরপুর গ্রামের মাখন বর্মণ বলেন, ১০ কেয়ার জমি ঋণ-পিন কইরা খেত করছিলাম, পাইন্নে নেওয়ায় এক ছটাক ধানও পাইছি না। এখন চাউল লইয়া খামচা-খামচি করতাম চাই না। নদী-হাওরে চৈত (চৈত্র) মাস লাগাদ (পর্যন্ত) মাছ ধরতে পারলে আবু-ধাবু (ছেলে- মেয়ে) লইয়া বাঁচতাম পারমু।

‘হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও’ আন্দোলনের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা-আইনজীবী বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু বলেন, ধান এবং মাছ ছাড়া এই অঞ্চলের মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান নেই। হাওর এবং বিলগুলোকে ইজারা না দিয়ে উন্মুক্ত করে দিলে মাছ ধরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে হাওরের মানুষ।সম্পাদনা: মুরাদ হাসান