রবিবার ২০ অগাস্ট ২০১৭


জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক


আমাদের অর্থনীতি :
19.06.2017

 

 

হায়দার আকবর খান রনো

 

পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় ধসের কারণে বসতভিটা ভেঙ্গে যায় এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে। তবে এবার বর্ষাকালের  শুরুতেই যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটল সেটা খুবই বেদনা ও দুঃখজনক। পাহাড় ধসে এবার যে প্রাণহানি হলো এটা খুব ম্যাসিভ আকারের হয়েছে। এটা অপরিকল্পিতভাবে বসতি স্থাপন এবং অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে আগেও এ রকম ধসের ঘটনা হয়েছে। কিন্তু এবারের ধসের ঘটনাটি খুবই ভয়াবহ এবং বিরাট আকারের হয়েছে।  পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় ধসের দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না। কেননা এক একটি পাহাড় তৈরিতে হতে কোটি কোটি বছর লেগে যায়। কিন্তু পাহাড় কাটতে সময় বেশি লাগে না। ধীরে ধীরে পাহাড় কেটে পরিবেশের ক্ষতি করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করা হচ্ছে। এটা আসলে মেনে নেওয়া যায় না। যারা পাহাড় ধসের ঘটনার মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এমন নির্মমভাবে যেন আর কোনো নিরীহ মানুষের প্রাণ না যায়।

অপরিকল্পিত ভাবে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ চট্টগ্রামে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম হয়েছিল। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সূর্য সেনের নেতৃত্ব যুব বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল। ইতিহাস সমৃদ্ধ সেই পাহাড়টা এখন আর নেই। এটা তো আমাদের ঐতিহাসিক একটা জায়গা ছিল। সেটা এখন নেই। বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এমনটি হলে পিলার স্থাপন করে স্মরণীয় করে রাখত, লেখালেখি করত এবং সেখানে একটা সাইনবোর্ড থাকত। ভারত থেকে আমার কাছে কয়েকজন লোক এসেছিলেন, তারা স্থানটি দেখতে চাইলে আমি তাদেরকে দেখাতে পারিনি।

পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে পাহাড় কেটে বাড়ি-ঘর স্থাপন করে সবকিছু উল্টা-পাল্টা হয়ে গেছে। আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষা যেমন জরুরি ঠিক তেমনি নিরীহ মানুষের জীবন বাঁচাতে পাহাড় কাটা রোধ করতে হবে। এতগুলো মানুষ আজ মারা গেল কি জন্য? আজ অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বসতি স্থাপনের জন্য সরকারের অনেকেই জড়িত রয়েছে। পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। আমি কঠোর ভাষায় নিন্দা জ্ঞাপন করছি। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে  হবে।

পরিচিতি: সভাপতিম-লীর সদস্য, সিপিবি

মতামত গ্রহণ: তানভীন ফাহাদ

সম্পাদনা: আশিক রহমান