সোমবার ২১ অগাস্ট ২০১৭


জনগণ কেন ভ্যাট আতঙ্কে


আমাদের অর্থনীতি :
20.06.2017

 

 

প্রফেসর ড. এম শামসুল আলম

 

 

গত ৮ জুন ক্যাব সদস্যদের জন্য এনবিআর আয়োজিত ‘নতুন ভ্যাট আইনে ভোক্তার সুবিধা’ শীর্ষক কর্মশালায় এনবিআর উক্ত হিসাবের ভিত্তিতে বলেছে, ‘নতুন ভ্যাট আইনে মূল্যস্ফীতি হবে না’। বরং ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত মোট করভার লাঘব হবে। ভ্যাট চেইন সম্পর্কে ধরণার অভাবেই রেয়াতি ব্যবস্থা বিবেচনায় না আসায় ভোক্তাপর্যায়ে ইনক্লুসিভ পদ্ধতিতে অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাটহার বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি দেখা দিবে বলে মনে হচ্ছে। এনবিআর আরও বলেছে, নতুন ভ্যাট আইনে বিদ্যমান ভ্যাট আইনের অনেক জনপ্রিয় বিচ্যুতি অপসারণ করা হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ অনুৎপাদনশীল ভ্যাট ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও উৎপাদনশীল ভ্যাট ব্যবস্থায় আনতে রেয়াতভিত্তিক ভ্যাট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কোনো পণ্যে ভ্যাট থাকার কারণে সমস্যা হলে সংসদে আলোচনা হবে। যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে তা নিরসণ হবে সংসদে। চার. ওই কর্মশালায় ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে: ১.  বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে ভোক্তারা ভ্যাট দেয় ৫ শতাংশ। নতুন আইন বাস্তবায়িত হলে দিতে হবে ১৫ শতাংশ। এতে ভোক্তাদের তীব্র আপত্তি রয়েছে। এত বেশি ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্তে ভোক্তারা আতঙ্কে আছেন। দাম বাড়বে না এমন কোনো আশ্বাস ভোক্তারা মানছেন না। এ ছাড়াও ভ্যাট হিসাবের পদ্ধতিও অস্পষ্ট। ২. বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেল কিংবা অন্যান্য পণ্য বা সেবার উৎপাদন সঞ্চালন/পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনÑ এসবের প্রতিটি পর্যায়ে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেসব পুঞ্জিভূত ভ্যাট একীভূত হয়ে কীভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাটে পরিণত হবে এবং নতুন আইনে  ইনক্লুসিভ  পদ্ধতিতে ভোক্তার নিকট থেকে তা আদায় হবে? বলা হচ্ছে, ‘এ ভ্যাট রেয়াত ব্যবস্থার আওতাভুক্ত বিধায় পণ্য বা সেবা সরবরাহে রাজস্ব চাহিদা এ ভ্যাট-প্রভাব মুক্ত’। নানা পণ্য/সেবাভিত্তিক ক্রয়-বিক্রয়মূল্য হিসাব করে এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

৩. ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, ফর্নেসওয়েল, এলপিজি, কেরোসিন, জট-ফুয়েলের মতো আমদানি করা জ্বালানির ক্ষেত্রে  ইনক্লুসিভ পদ্ধতিতে অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট কীভাবে আদায় হবে এবং ভোক্তার করভার লাঘব হবে, সে হিসাব স্পষ্ট হওয়া দরকার। ৪.  গ্যাস প্রাইসিং বিধি মতে, ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের বিক্রয়মূল্য ১০০ টাকা হলে রাজস্ব চাহিদা বা সরবরাহ ব্যয় ৪৫ টাকা। এসডি ৪২ টাকা এবং ভ্যাট ১৩ টাকা। অর্থাৎ গ্যাস এসডি-ভ্যাট মুক্ত হলে গ্যাসের বিক্রয়মূল্য হবে রাজস্ব চাহিদা/সরবরাহ ব্যয়ের সমান। অর্থাৎ ৪৫ টাকা। যুক্ত হওয়ায় এসডি-ভ্যাট ৫৫ টাকা (১২২ শতাংশ)। অর্থাৎ এসডি ৯৩ শতাংশ এবং ভ্যাট ২৯ শতাংশ। অথচ বলা হচ্ছে, গ্যাসে ভ্যাট বর্তমান আইনে ১৫ শতাংশ, নতুন আইনেও ১৫ শতাংশ। ইনক্লুসিভ/এক্সক্লুসিভের এমন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ প্রকৃতই কঠিন এবং অস্পষ্ট। এ ব্যাখ্যা সহজ এবং স্পষ্টীকরণ ছাড়া অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ইনক্লুসিভ পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হওয়া কঠিন। (চলবে-০২)

লেখক: জ্বালানি বিশেষজ্ঞ