বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭


আল কায়েদার তৎপরতাকে গুরুত্ব দিতে হবে


আমাদের অর্থনীতি :
17.07.2017

 

ব্যারিস্টার এম. সরোয়ার হোসেন

 

আল কায়েদা একটি আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী। এ জঙ্গি সংগঠনটি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হচ্ছে। বাংলাদেশেও এদের তৎপরতা বাড়ছে বলে র‌্যান্ড কর্পোরেশন নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সংক্রান্ত উপ-কমিটির সভায় একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ভারতীয় উপমহাদেশে আল কায়েদা শাখা চলতি বছর পর্যন্ত কয়েকশ সদস্য নিয়োগ দিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশেও তাদের কার্যক্রম ও তৎপরতাও বাড়ছে। আমি মনে করি গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি থেকে যে দাবি করা হয়েছে তা আমাদের অবশ্যই আমলে নিতে হবে। আমরা জানি যে হলি আর্টিজানে যখন হামলা হয়, আর এ হামলার পেছনে কারা দায়ী সে বিষয়ে কিন্তু বিদেশি সংবাদ সংস্থাগুলোই আগে সংবাদ প্রকাশ করেছে। আর সন্ত্রাসী সংগঠন আল কায়েদা বা আইএস যাই বলি না কেন তাদের টার্গেটই থাকে যেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা শাসনব্যবস্থা খুব সুদৃঢ় নয় সে জায়গাটি তাদের টার্গেট গ্রুপ খুঁজে বের করে। আমরা জানি বাংলাদেশের কিছু নাগরিক আল-কায়েদা বা আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। সেজন্য আইএস ভেঙে যায় সেটাও আরেকটা বিপদের কারণ হতে পারে। যারা তাদের আদর্শে বিশ্বাস করে নাম লিখিয়েছে তারা অনেকেই কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। এটা আমাদের জন্য অবশ্যই আশঙ্কার কারণ। বিদেশি সংস্থাগুলোর মতামত যে অনেক সময় পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে থাকে তা নয়। এটাকে অনেক সময় যুক্তি দিয়ে অবজেক্ট দিয়ে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। আজ বাংলাদেশে আল কায়েদা নিয়ে তাদের যে আশঙ্কা রয়েছে তাদের এই আশঙ্কার যথেষ্ট ভিত্তি আছে।

এ ধরনের আশঙ্কা যখন কোনো দেশে বিরাজ করে তখন এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সক্ষমতার জায়গাটি হলো দেশের জনগণ। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কখনোই কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে রুখতে পারে না। জনগণ যখন এদের কার্যক্রম রুখে দেয় তখনই পরিপূর্ণভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মতো বিভিন্ন কার্যক্রম রুখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুধু অপারেশন করতে পারে। এ ধরনের সন্ত্রাসী বাহিনী যদি জনগণের সমর্থন পায় তাহলে জনগণের মাধ্যমেই তা নির্মূল করতে হয়। সত্যিকথা বলতে কীÑ কোনো দেশে যখন সুষ্ঠু, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিরাজ না করে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার না থাকে তখনই দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে চলে যায়। সেজন্য শান্তি শৃঙ্খলা বিদ্যমান রাখতে হলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আবার বাইরের দেশগুলোতে যখন কোনো সন্ত্রাসীকে আটক বা গ্রেফতার করা হয় তখন তাকে আইনের মুখোমুখি করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে কোনো সন্ত্রাসীকে অনেক সময় জীবিত গ্রেফতারের চেষ্টা না করে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে অন্য যারা সংশ্লিষ্ট রয়েছে তারা কিন্তু অধরা থেকে যায়। ফলে জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে অনেক কষ্টসাধ্য কাজ হয়ে পড়ে। ফলে সন্ত্রাসীরা আরও জড়িয়ে পড়তে পারে সে আশঙ্কাকে আরও বেশি সুদৃঢ় করে। সুতারাং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ঘটনা ঘটতে পারে সেরকম ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং যথাসম্ভব তাদের জীবিত উদ্ধার করে মূল হোতাদের খুঁজে বের করা। কেননা এ ধরনের জঙ্গি কার্যক্রমের যে ট্রেইনার তাকে আমরা হয়তো শেষ করে দিচ্ছি। কিন্তু এর পেছনে যে চ্যানেল রয়েছে তাকে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। সুতরাং আমাদের কাজ হবে জঙ্গিগোষ্ঠীর চ্যানেলকে খুঁজে বের করা।

পরিচিতি: সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

মতামত গ্রহণ: বায়েজিদ হোসাইন

সম্পাদনা: আশিক রহমান