শনিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭


বাঙালির আত্মপরিচয়ের নিদর্শন রক্ষা করুন


আমাদের অর্থনীতি :
17.07.2017

মিঠুন মিয়া

 

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিনসরা গ্রামে ‘মনষামঙ্গল’ কাব্যের কিংবদন্তি বেহুলার গ্রাম। এখানে অবস্থিত কয়েকশ বছরের পুরনো বেহুলার কূপ গ্রামবাসী ২০০৭ সালে নিজেদের চেষ্টায় পরিষ্কার করলেও তদারকি না থাকায় তা আবার পরিণত হয়েছে আবর্জনার ভাগাড়ে। বেহুলার খাড়ি, নৌকা আকৃতির বেহুলার ভিটা, সবকিছু ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। অর্থাৎ দেশের প্রতœতত্ত্ব নির্দশনগুলো ভালো অবস্থানে নেই। বড় বড় প্রতœতত্ত্বগুলো বিশেষ গুরুত্ব পেলেও ছোট ছোট নিদর্শনগুলোর একেবারেই নাজেহাল অবস্থা।

চার. স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলদারিত্ব কম নয়। এদিকে অনেক নিদর্শন অপব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক স্থাপনার লাল ইটগুলো ক্ষয়ে যাচ্ছে। ফলে সেগুলো পশুপাখিদের আবাসস্থালে পরিণত হচ্ছে। চুরি হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় এগুলো আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খোদ রাজধানীর পুরান ঢাকাতেই রয়েছে নানা ধরনের নিদর্শন। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে পারলে পুরান ঢাকা হতে পারে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। পুরনো ঢাকাকে পর্যটন বান্ধব করা গেলে পর্যটন নগরীর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় চারশ বছর আগে বুড়িগঙ্গার তীরে জন্ম হয় প্রাচীন নগরী ঢাকার। পুরান ঢাকার নানা ঐতিহ্য ও স্থাপনা শুধু ঢাকাকেই নয় গোটা দেশকেই প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনের বাহক হিসেবে উপস্থাপন করছে আজও। এখানকার ঐতিহাসিক সড়ক, ধর্মীয় উপাসনালয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন হতে পারে পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম স্থান। একসময় দুই বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতির মিলন কেন্দ্র ছিল বাংলাবাজারের বিউটি বোর্ডিংকে ঘিরে। এগুলোর একই দশা। পুরান ঢাকার স্থাপনাগুলোর সৌন্দর্যহানি ঘটবে। অযতœ আর অবহেলায় এগুলোরও নাজেহাল অবস্থা। এসব নিদর্শনগুলো হতে পারে অর্থ উপার্জনের অন্যতম উৎস। সরকার অনেক রাজস্ব আহরণ করতে এই খাত থেকে। দেশের সমস্ত নিদর্শনগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে সঠিক নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। নিদর্শনগুলোর রয়েছে এক ধরনের নান্দনিক সৌন্দর্য। যা এখন আমাদের হার মানায়। পূর্বপুরুষদের শৈল্পিক পরিবেশন এবং কর্ম এখনো আমাদের ভাবাতে শেখায়। অথচ এই পুরাকীর্তিগুলো আমাদের জীবন্ত ইতিহাস। এগুলোর দিকে আঙ্গুল উচিয়ে আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেখানো যাবে বাঙালির আত্মপরিচয়। বলা যাবে কোনো কালেও বাঙালি জাতির কোনো কিছুর অভাব ছিল। যথেষ্ট সমৃদ্ধ এবং স্মৃতিমধুর আমাদের পূর্বপুরুষদের ইতিহাস। প্রতœতত্ত্বগুলো এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য হস্তান্তরের অন্যতম পাথেয়। কেবল বই থেকে ইতিহাস পড়ে নয়, নিজ চোখে ইতিহাসের