শুক্রবার ২৪ নভেম্বর ২০১৭


আদালতপাড়ায় হামলার শিকার ইমরান এইচ সরকার ও তার স্ত্রী


আমাদের অর্থনীতি :
17.07.2017

 

মামুন খান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করে মিছিলে সেøাগান দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় জামিন নিয়ে বের হওয়ার সময় আদালত পাড়ায় হামলার শিকার হয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। এসময় তার সঙ্গে তার স্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীর কন্যা নাদিয়াও ছিলেন। গতকাল রোববার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা সিএমএম আদালতের সামনের মূল ফটকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রোববার সকাল ১০টার দিকে মামলাটিতে তিনি ঢাকা মহানগর হাকিম এসএম মাসুদ জামানের আদালতে জামিন নিতে আসেন। আদালত জামিনের আবেদন মঞ্জুর করার পর বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পর সিএমএম আদালতে উপস্থিত মিডিয়ায় মামলার বিষয়ে ব্রিফিং করেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মামলার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। গণমাধ্যম ছাড়া আদালত থেকে তাকে মামলার বিষয়ে জানানো হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, আদালতের প্রতি সম্মান রেখে গণমাধ্যমের মাধ্যমে সমনের কথা জেনেই কিন্তু আদালতে এসেছি।

তিনি বলেন, এটা পরিষ্কার যে, মামলাটি করা হয়েছে আমাকে হয়রানি করার জন্য। আমি অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে রাজপথে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন করে থাকি। আমাকে হয়রানি করার জন্য বিভিন্ন জেলায় মামলা দেওয়া হয়েছে। যেন আমি চলমান যে আন্দোলন সেগুলো না করতে পারি। সেই জায়গায় তারা অনেকটাই সাকসেসফুল। কেননা আমাকে আদালতে আসতে হয়েছে। এই যে আমার সময় নষ্ট হচ্ছে।

মামলাটিকে হয়রানি মামলা উল্লেখ করে ইমরান এইচ সরকার বলেন, মামলাটি কোনোভাবে চলার সুযোগ থাকে না। এ কারণে একটা মিছিলে কী ধরনের স্লোগান হবে, সরকার তা ঠিক করে দিতে পারে না। আর গণজাগরণের মিছিলে তো নানা ধরনের, নানান মতের, সংগঠনের মানুষ আসে। আর সেটা একটা স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল আর মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসে। এখানে মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ জানাতেই আসে। আর এ প্রতিবাদের ভাষা ঠিক করে দেওয়ার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। সুতরাং এধরনের মামলা পরিচালনা করাই একটা খারাপ দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, এ ধরনের মামলা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের জন্য মারাত্মকভাবে হুমকি।

এরপর স্ত্রীসহ সাদা রঙের প্রাইভেটকার যোগে তিনি বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাদের গাড়িটি সিএমএম আদালতে মূল ফটকের সামনে এলে কতিপয় দুষ্কৃতকারী তার গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম এবং ইট-পাথরের ভাঙা টুকরা ছুড়তে থাকে। ওই সময় ইমরান এইচ সরকারের গাড়ি পিছিয়ে এসে এবং তিনি স্ত্রীসহ গাড়ি থেকে নেমে সিএমএম আদালতে দ্বিতীয় তলার ২৮ নম্বর আদালত কক্ষে উঠে আশ্রয় নেন।

প্রায় ৩০ মিনিট আদালত কক্ষে থাকার পর আবার নিচে নেমে আসেন। মিডিয়ায় পুনরায় হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতে আসার পর যদি এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হয়, তাহলে আদালতের

প্রতি কীভাবে মানুষ আস্থা রাখবে। আদালতেই যদি হামলা হয়। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকে আমি আদালতে এসেছিলাম। আদালতে আসার পর আমার ওপর সন্ত্রাসী হামলা করা হলো। আমার গাড়ির ওপর হামলা করা হয়েছে, পাথর ইট-পাটকেল মারা হয়েছে।

গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় বোমা মারার প্রস্তুতি হামলাকারীদের ছিল দাবি করে তিনি লেন, এখন আমি যাচ্ছি, আমার গাড়ির ওপর বোমা মারা হবে না তার নিশ্চয়তা কী? গাড়ি উড়িয়ে দেওয়া হবে না এরও কোনো নিশ্চয়তা নেই। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় যারা আজকে এ হামলা করছে, তারা সন্ত্রাসীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

এরপর তিনি আবার গাড়িতে করে পুলিশ পাহারায় স্ত্রীসহ বেরিয়ে যান।

এদিকে হামলার সময় হামলাকারীরা আদালতের সামনের জনসন রোর্ডে ‘জয়বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’শ্লোগান দিচ্ছিল। ছাত্রলীগ এ হামলা চালিয়েছে বলে গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। আর মামলার বাদী এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী দাবি করেন উত্তেজিত জনতা এ হামলা চালিয়েছে।

আদালতে ইমরান এইচ সরকারের পক্ষে জামিন শুনানি করেন এ কে এম সোহেল আহম্মেদ, কার্তিক চন্দ্র বক্তা, অ্যাডভোকেট প্রকাশ রঞ্জন দাশ। আর বাদীপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। সম্পাদনা : হাসিবুল ফারুক চৌধুরী