বৃহস্পতিবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭


পারভেজ মিয়ার বীরুত্ব ও আমাদের দায়


আমাদের অর্থনীতি :
18.07.2017

ওয়াসিম ফারুক

নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ে আমাদের অভিযোগের শেষ নেই! বিশেষ করে পুলিশের কর্মকা- নিয়ে। কেন তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এত অভিযোগ? পুলিশ বাহিনীর সবাই কি মন্দ? না। কারণ পুলিশবাহিনীর কিছু সদস্য হয়তো অনাকাক্সিক্ষত আচরণ করেন, এটা অস্বাভাবিক নয়। খারাপ ভাল মিলেই মানুষ। পুলিশ সম্পর্কে মন্দ আচরণের অভিযোগ যেমন আছে, আছে ভালো ভালো কাজের জন্য প্রশংসিতও।

কনস্টেবল পারভেজ মিয়া বর্তমান সময়ে এক প্রসংশিত নাম। নিজের কর্মদক্ষতা ও বুদ্ধির মধ্যদিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’। পারভেজ মিয়ার কর্মদক্ষতায় আজ প্রসংশিত হয়েছে পুরো পুলিশবাহিনী। ৭ জুলাই ২০১৭ দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার কনস্টেবল পারভেজ মিয়ার ডিউটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে মতলবগামী মতলব এক্সপ্রেস যাত্রীবাহী একটি বাস হঠাৎ অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডোবায় পড়ে যায়। উপস্থিত লোকজন যখন দাঁড়িয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছিলেন। খবর পেয়ে মুহূর্তের দায়িত্বরত কনস্টেবল পারভেজ মিয়া মহানায়কের মতো জীবনবাজি রেখে পচা ও গন্ধযুক্ত ময়লা ডোবায় লাফিয়ে পড়েন। একে একে গাড়ির সবকয়টি জানালার গ্লাস ভেঙে দেন। ততক্ষণে গাড়িটির এক তৃতীয়াংশ পানিতে তলিয়ে যায়।

এ সময় গাড়িতে থাকা যাত্রীদের আত্মচিৎকারে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতরণ ঘটে। নিজেই ডুবন্ত বাসটির ভেতরে ঢুকে উদ্ধার করেন সাত মাস বয়সী একটি শিশুকে। তারপর একে একে উদ্ধার করেন পাঁচ নারীসহ ১৫ যাত্রীকে। পরে পারভেজ মিয়ার সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেন স্থানীয় জনতা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। পারভেজ মিয়ার বুদ্ধিমত্তায় নিশ্চিত মৃত্যুর ঘড় থেকে ফিরে আসেন বাসের অর্ধশত যাত্রী। দুর্ঘটনার ওই মুহূর্তে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তখন কেউ হয়তো তার দামি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করায় ছিল ব্যস্ত ছিলেন, কারও হয়তো ধান্দা ছিল ডুবে যাওয়া যাত্রীদের সর্বস্ব লুট করা। তবে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে অন্যের জীবন বাঁচানো পারভেজ মিয়াদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। আর পারভেজ মিয়াদের জন্যই আমরা নিজেদের সভ্য সমাজের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিতে পারছি।

আজ আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে মানবতা, বিবেকবোধ ক্রমশই হারিয়ে যাচ্ছে। সামান্য ব্যক্তি স্বার্থের জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের বৃহৎ স্বার্থকে বিসর্জন দিতে মোটেও কুণ্ঠাবোধ করি না কেউ। আমরা চাইব, পারভেজের মতো সমাজের প্রতিটি মানুষের ভেতরে মনবতাবোধ জাগ্রত হোক। রাষ্ট্র ও সমাজ থেকে হানাহানি, কাটাকাটি, গুম, খুনখারাপি বন্ধ হয়ে মানবিক রাষ্ট্র হোক। প্রতিষ্ঠা পাক পারভেজ মিয়াদের বীরত্ব।

লেখক: লেখক কলামিস্ট/সম্পাদনা: আশিক রহমান