সোমবার ২৪ জুলাই ২০১৭


মন্ত্রিসভায় আলোচনা
খালেদা জিয়া দেশে নাও ফিরতে পারেন


আমাদের অর্থনীতি :
18.07.2017

 

আনিসুর রহমান তপন : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হয়তো আশঙ্কা করছেন আদালতের রায়ে তার শাস্তি হতে পারে। এই ভয়ে তিনি বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। এর আগে তো ছেলে তারেক রহমানের শাস্তি হওয়ায় তিনিও আর দেশে আসছে না। খালেদা জিয়াও শাস্তির ভয়ে দেশে ফিরে নাও আসতে পারেন। খালেদা জিয়ার দেশে ফিরে আসা-না আসার শঙ্কার বিষয়ে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় স্থান পায় বলে জানিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন মন্ত্রী।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান শেখ হাসিনার উদ্দেশে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেও শুনিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য জানান, চলতি মাসে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৪২ দিনব্যাপি লন্ডন সফর নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় মেতে ওঠেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। তার এই বিদেশ সফর এবং ফিরে আসা প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ভিন্ন  রকম মন্তব্য ও আশঙ্কার কথা বলেন।

মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের কেউ বলেন খালেদা জিয়া আদালতের শাস্তির ভয়ে আর দেশে ফিরে আসবেন না, কেউ বলেন নির্বাচনের ঠিক আগে এত লম্বা সময় নিয়ে বিদেশ সফর নতুন কোনো ষড়যন্ত্র করার লক্ষ্যে সেখানে গিয়েছেন কিনা সেটা খোঁজ নেওয়া দরকার।

সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন কমিশন (ইসি)’র ঘোষিত রোডম্যাপ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘রোডই নাই, তার আবার কিসের ম্যাপ’। এ প্রসঙ্গে আলোচনায় বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছ’ যে রোড খুঁজে পাচ্ছ না। এরপরই বিএনপির বিরুদ্ধে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভ-ুল করার কোনো ষড়যন্ত্র করছে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিএনপির জন্মই হয়েছে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, অনির্বাচিত বা চোরাপথে ক্ষমতায় যেতে ইচ্ছুকরা তো ষড়যন্ত্র করবেই। তাই আগামীতে যাতে বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারে সে ষড়যন্ত্র করতেও তিনি বিদেশে যেতে পারেন।

তবে আগামী নির্বাচনে যাতে সবাই অংশ নেয় এ আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব দল নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচন ভাল হয়। কারণ এতে প্রতিযোগিতা থাকে। ফলে অনিয়ম কম হয়। কিছু ক্ষেত্রে তো সমস্যা থাকে। এটা সবসময়ই থাকে। তিনি বলেন, এত ভোট কেন্দ্র সঙ্গে লাখ লাখ ভোটার সমস্যা ছাড়া নির্বাচন করা যায় না।

নির্বাচনের উপলক্ষে এখন থেকেই নিজ নিজ এলাকায় নেতাদের অবস্থান জোরদার করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সরকারের উন্নয়ন নিয়ে প্রচার বাড়াতে হবে। এতে জনগণ জানবে বর্তমান সরকার তাদের ভাগ্যউন্নয়নের জন্য কতটা আন্তরিক। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকা অবরোধের সময় সন্ত্রাস, আগুনবোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার কথাও প্রচার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে। কারণ এই দলটি এতটাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী দল যে, তারা ৭১‘র মুক্তিযুদ্ধকে বলে গ-গোল। আবার এই দলটিই তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে পরিচয় দেয়। বিএনপি তো মুক্তিযুদ্ধকেই বিশ্বাস করে না। তাই তারা আবার ক্ষমতায় আসলে পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা এই জাতির ওপর ভর করবে।

নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য বিএনপি দাবি করছে, এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের হঠাৎ এত সেনা প্রীতি কেন। জিয়া তো সেনাবাহিনী তৈরি করেনি। সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠা করেছেন বঙ্গবন্ধু। এই খালেদা জিয়া ২০০৮ সালে নির্বাচনের পর অভিযোগ করে বলেছে, ভারত, সেনাবাহিনী আর টাকার বস্তা বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে পরাজিত করেছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, যে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তার এত অভিযোগ সেই সেনাবাহিনীকে নির্বাচনে মোতায়েন করার জন্য এবার মায়াকান্না শুরু করেছেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন আইনেই তো আছে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে প্রশাসনের সবকিছু কমিশনের অধীনে থাকবে। সেনাবাহিনী যে নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে সে কথাও বলা আছে। যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে সেনা মোতায়েন করা হবে এটা খালেদা জিয়া নিজেও জানেন। কারণ তার সরকারের অধীনেও বেশকিছু নির্বাচন হয়েছে।

সব রকম বৈরি পরিবেশে আওয়ামী লীগ নিজেকে দাঁড় করাতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলে, পাকিস্তানের মুসলিম লীগের তলোয়ারের নিচে আওয়ামী লীগ নামের দলটির জন্ম। তাই কোনো পরিস্থিতিকে আওয়ামী লীগ ভয় পায় না।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কমিশনের সম্প্রতি ঘোষণা করা রোডম্যাপ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত কোনো কথা না বলার জন্য মন্ত্রিসভার সদস্যসহ দলীয় নেতাদের প্রতি নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি বলেন, রোডম্যাপ ইসির বিষয়। এই রোডম্যাপ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আপনারা কোনো মন্তব্য করবেন না। শেখ হাসিনা বলেন, এই রোডম্যাপ বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা আগে দেখতে হবে। এজন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। কাজেই আগে থেকে এ বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করা ঠিক হবে না। সম্পাদনা : বিশ্বজিৎ দত্ত