শনিবার ১৯ অগাস্ট ২০১৭


 বৈদিক জ্ঞান যে কারণে অভ্রান্ত


আমাদের অর্থনীতি :
29.07.2017

া প্রসঞ্জিৎ ভক্ত

 

আমরা কেন বেদসমূকে সত্য বলে স্বীকার করব? বেদসমূহ হচ্ছে ঋষিদের সাধনালব্ধ উপলদ্ধি। যখন আপনি একটি মোটরসাইকেল কেনেন, তখন তার সঙ্গে একটি ইনস্ট্রাকশন ম্যানুয়াল বা ব্যবহার-বিধি নির্দেশিকা থাকে, যাতে ব্যাখ্যা করা থাকে কিভাবে ওই মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা যেতে পারে। ঠিক তেমনি, সৃষ্টির শুরুতে ভগবান ঋষিদের মাধ্যমে আমাদেরকে বৈদিক জ্ঞান প্রদান করেন, যাতে ব্যাখ্যা করা আছে এই জগত কেমন, কোথা থেকে উদ্ভূত, কিভাবে এই জগতে আচরণ করা উচিত।

কয়েকটা দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আমরা বুঝতে চেষ্টা করব কিভাবে বৈদিক জ্ঞান অভ্রান্ত। স্মরণাতীত কাল পূর্বে রচিত হলেও এমন সব তথ্য বেদে বর্ণিত হয়েছে, বিজ্ঞান যা অতি সম্প্রতি আবিষ্কার করতে শুরু করেছে।

১. ডালটন পরমাণু আবিষ্কার করেছেন দুশো বছরও হয়নি। আজ থেকে ৫০০০ বছর পূর্বে রচিত শ্রীমদ্ভাগবতের মূল শ্লোকে পরমাণু অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম কণা- এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মসংহিতাতেও(৫/৩৫) বলা হয়েছে যে, শৃঙ্খলাযুক্ত জড় পদার্থের বিন্যাসে বৃহত্তম ইউনিট বা একক হচ্ছে ব্রহ্মা-, ক্ষুদ্রতম একক হচ্ছে পরমাণু। এইরকম সর্ববৃহৎ ইউনিট বা ব্রহ্মা- একটি নয়, কোটি কোটি।

২. পাঁচশো বছর আগে ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চলেই এই বিশ্বাস প্রচলিত ছিল যে, পৃথিবী সমতল- গোল নয়। বেদে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে যে পৃথিবী গোল- ‘ভূ-গোল’।

৩. জড় বিজ্ঞান এখনো মন কি তা জানাতে পারছে না; আজ থেকে ৫০০০ বছর পূর্বে বৈদিক শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে স্থূল-শরীর কঠিন(ভূমি), তরল(জল), গ্যাসীয়(বায়ু), তাপ(অগ্নি), আকাশ ইত্যাদি পাঁচটি স্থূল উপাদানে তৈরি এবং মন, বুদ্ধি ও অহংকার এই তিনটি সূক্ষ্ম উপাদানে তৈরি সূক্ষ্ম শরীর। অর্থাৎ মন একটি জড় উপাদান (ভ.গী.- ৭/৪)।

৪. বেদে বলা হয়েছে যে উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষ সকল জীবের দেহের মধ্যে রয়েছে প্রাণ, জীবনী শক্তি বা আত্মা। অথচ বিজ্ঞানীরা দীর্ঘকাল ধরে এই বিশ্বাস প্রচার করতেন যে উদ্ভিদের প্রাণ নেইÑ যতদিন না জগদীশ চন্দ্র বসু তার পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখলেন যে উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে।

৫. বেদে উল্লেখ আছে সব মল অপবিত্র কিন্তু গরুর গোবর পবিত্র, তাই যে কোনো পূজাপার্বণে বা মাটির ঘরে গোবর লেপণ করা হয়। বিজ্ঞানীরা ১৯৪০ সালে গোবরের মধ্যে প্রতিষেধক গুণাবলি আবিষ্কার করেন।

৬. বর্তমানে আমরা যে মেডিটেশন বা বিভিন্ন মেথড দেখতে পাই তা আমরা বেদ থেকেই পেয়ে থাকি।

৭. গণিতশাস্ত্রে যে পাটিগণিত ও জ্যামিতি দেখতে পাই তা আগে যজুর্বেদে বনর্ণা করা রয়েছে।

৮. বৈদিক শাস্ত্রে পৃথিবীর ব্যাস হলো ৭৮৪০ মাইল আর বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর ব্যাস ৭৯২৬.৭ মাইল। বৈদিক শাস্ত্রে লেখা আছে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ২৫৩০০০ মাইল দূরে আর বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ২৫২৭১০ মাইল।