রবিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭


ইসলামে পরিবার ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ


আমাদের অর্থনীতি :
08.09.2017

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : সমাজের প্রাণ কেন্দ্র হল পরিবার। ইসলামের দৃৃষ্টিতে পরিবার শুধু একটি উত্তম সমাজিক প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং একটি পবিত্র সংস্থা। পরিবারের সুখ-শান্তি এবং পারস্পরিক সর্ম্পক ছাড়াও রয়েছে একটি আইনগত ও সামাজিক দিক। মানবজীবনের জৈবিক চাহিদা স্বামী স্ত্রীর মাধ্যমে পরির্পূণ করা ছাড়াও এর রয়েছে একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবদান। আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইসলাম প্রবর্তিত পরিবার প্রথার সুফল পেতে হলে এর সুস্থ ও সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। নৈতিক চরিত্র গঠনের প্রকৃষ্ট ক্ষেত্র হলে পরিবার। সামাজিক সর্ম্পক সৃষ্টি ও বৃদ্ধি হয় পরিবারকে কেন্দ্র করে।

পরিবারে একজন আর একজনের প্রতি বিশ্বস্ত এবং অনুগত হতে হয়। তা থেকে সৃষ্টি হয় সামাজিক আনুগত্য। এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি দরদ এবং অনুভূতি ছাড়া আদম সন্তানের মানবিক শান্তি সৃষ্টি হতে পারে না। পরিবার  ছাড়া জীবনের যাত্রাপথে থাকে না কোন নিরাপত্তা। সামাজিক, মানবিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মানুষ পরিবারেই সবচেয়ে বেশি পারস্পরিক সহযোগিতা পেয়ে থাকে। পবিত্র আল কোরআনে পারিবারিক সদস্যদের মুহসিনীন বা প্রাচীর ঘেরা দুর্গে অবস্থান কারী সুরক্ষিত লোকজনের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

ইসলামে পরিবার শুধু স্বামী স্ত্রী এবং সন্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় পরিবারের পরিসর আরও ব্যাপক। নিকট আত্মীয় স্বজন ও এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত তাদের সাথে সর্ম্পক দয়া, করুনা এবং সহানুভূতি তো আছেই, বাড়তি দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন ও জড়িত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পূর্ণ সহযোগিতা ও ¯েœহ ভালবাসার বন্ধনের উপর নির্ভর করে পারিবারিক জীবনের সুখ-শান্তি ও সর্বাঙ্গীণ উন্নতি, স্বামী স্ত্রী নিজনিজ কর্তব্য পালন করে চললে পারিবারিক পরিবেশ অনেকাংশে সুখ ও শান্তিতে ভরে উঠে। পরিবার হচ্ছে আদি ও ক্ষুদ্রতম একক অংশ বা ইউনিট । মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই পরিবারের উৎপত্তি ঘটেছে এবং পরিবারের অস্তিত্বের সাথেও মানবপ্রকৃতি সম্পৃক্ত। ইসলামী সমাজব্যবস্থায় পরিবারই হলো মানুষ গড়ার মূল কেন্দ্র এবং সমাজ গঠনের প্রধান ভিত্তি। এ জন্য পরিবার গড়ার ব্যাপারে ইসলাম বিশেষ ভাবে যতœবান হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ।

মহান আল্লাহ পাক বলেন, ‘‘আর সন্তানের পিতার দায়িত্ব যথাবিধি তাদের (মা ও শিশুর ) ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করা। (সূরা বাকারা, আয়াত-২৩৩) এ আয়াত দ্বারা এ কথা বুঝানো হয়েছে যে, শিশুকে স্তন্যদান মাতার দায়িত্ব, আর ভরণ-পোষণ ও জীবন ধারণের অন্যান্য দায়িত্ব বহন  করবে পিতা। সামাজিক পরিবেশে বসবাস করা স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার এবং বাচ্চাকে দুধ পান করানো তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ মমত্ববোধের পরিচয় ও কর্তব্য। এটা শিশুর অন্যতম অধিকার ও বটে। সুরা বাকারা বলা হয়েছেঃ ‘‘মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে’’।

এসব অধিকার সমূহ যথাযথভাবে আদায় করে স্বামী পরিবারের অভিভাবকের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজন আর্থিক সচ্ছলতা। নতুবা স্ত্রীর অধিকার আদায় করা বা সন্তানের পুষ্টি, স্বাস্থ্য, বিনোদন, ভবিষ্যৎ জীবন গঠন কোনটিই সম্ভব নয়। তাই পারিবারিক পরিবেশ সুন্দর ও শান্তিময় করতে হলে সকলকে আর্থিক ভাবে সচ্ছল হতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। মাতা-পিতার উপর সন্তানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট বয়সে তার জন্য আলাদা শয়নের ব্যবস্থা করা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘তোমাদের সন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হয়, তখন তোমরা তাদেরকে নামাজের জন্য আদেশ কর। আর দশ বছর হলে তাদেরকে নামাজের জন্য তাগিদ দেবে এবং ফাররিকু বায়নাহুম ফিল মাদাজিই তাদের বিছানা আলাদা করে দেবে’’

হযরত লোকমান (আ:) নিজ পুত্রকে যে মূল্যবান উপদেশ দিয়েছেন পবিত্র কোরআন শরীফে তার উল্লেখ হয়েছে এভাবে ‘‘হে বৎস নামাজ কায়েম কর, সৎ কাজের আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ করা এবং বিপদাপদে সবর করা। নিশ্চয়ই এটি দৃঢ়তার কাজ’’ (সুরা লোকমান, আয়াত-১৭) শিশুরা নরম মাটির মত, শৈশবে যে মূল্যবোধ  ও আদব-আখলাকের পরিবেশে বেড়ে উঠবে তাই পরবর্তী জীবনে স্থায়ী হয়ে যায়। এ কারণে পরিবার হচ্ছে শিশুর প্রথম বিদ্যালয় ।

ইসলাম একটি মধ্য পন্থী দ্বীন বা জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম বলেছে তুমি আয় বুঝে ব্যয় কর। দারিদ্র যেমন ইসলাম কামনা করে না, অনুরূপ ভাবে ইসলামে বাহুল্য বর্জনের নির্দেশ ও রয়েছে। কারণ সীমাহীন দারিদ্র অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে কুফরির পথে ধাবিত করে। হযরত নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-‘‘তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং সবাই তার দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হতে হবে।’’ পুরুষ তার গৃহে দায়িত্বশীল, এ জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে। অনুরূপ ভাবে নারী তার স্বামী গৃহে একজন দায়িত্বশীল এবং দায়িত্বের ব্যাপারে তাকে জবাবদিহি করতে হবে । (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)।