বৃহস্পতিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » লিড ২ » হটলাইন : দুই লক্ষাধিক অভিযোগের জট খুলতে সময়ক্ষেপণ দুদকের!


হটলাইন : দুই লক্ষাধিক অভিযোগের জট খুলতে সময়ক্ষেপণ দুদকের!


আমাদের অর্থনীতি :
19.09.2017

জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না : দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দুই লক্ষাধিক (অভিযোগ) ফোন কলের জট খুলতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। প্রতিদিন অসংখ্য অভিযোগ আসছে। অভিযোগের স্তুপ তৈরি হচ্ছে। এসব অভিযোগের দ্রুত তদন্ত করা না হলে বা অভিযোগ আমলে না নিলে বছর শেষে বড় ধরনের জটের সৃষ্টি হবে। যার সুরাহা করতে দীর্ঘসময় লেগে যাবে। জানা যায়, বর্তমানে দুই লক্ষাধিক অভিযোগের মধ্যে মাত্র ৪ শতাধিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগকারীরা হতাশা ব্যাক্ত করছে।

এদিকে দুদক সচিব ড .শামসুল আরোফিন বলেন, অভিযোগ দ্রুত বাছাই করতে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া করা হবে। ৩ জনের বাছাই কমিটির সদস্যরা পৃথক পৃথক নাম্বারিং এর মাধ্যমে যাতে দ্রুত অভিযোগ আমলে নেয়া যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এতে করে আরো দ্রুত গতিতে অভিযোগের তদন্ত করা যাবে বা অভিযোগ আমলে নেয়া যাবে। তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে অনেকে জানেন না কোন কোন বিষয়ে অভিযোগ করা যায়। অধিকাংশ অভিযোগেই দেখা যায় জমি দখল, পারিবারিক বিরোধ নিয়ে। যা দুদকের কাজ নয়। দুদক সরকারি সম্পদ ও অর্থ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করছে। ফৌজদারি অপরাধ তো আমরা নিতে পারছি না। প্রকৃতপক্ষে অনেকেই হয়তো জানেন না কোন বিষয়ে দুদকে অভিযোগ করা যায়। এজন্য ব্যানার, ফেস্টুন এবং টিভিতে প্রচারের ব্যবস্থা করছি।

‘যখনই দুর্নীতির ঘটনা, তখনই অভিযোগ’ কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে ফ্রি কল করুন এমন স্লোগানে গত ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে হটলাইনটি। এসময় দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এক অনুষ্ঠানে বলেন, হটলাইন জনগণের সঙ্গে দুদকের সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭১ হাজার (অভিযোগ) কল এসেছে। এর মধ্যে আমলযোগ্য অভিযোগের সংখ্যা ৪শ’র মতো। তা থেকে হাতেগোনা কয়েকটি অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। উদ্বোধনের দিনই ফোন আসে ৪ হাজার ৯৫১টি। ১২ দিনের মাথায় হটলাইনে ফোন কলের সংখ্যা ১ লাখ ১২ হাজারে পৌঁছায়। এতে করে দেখা যায়, ১০ কর্মদিবসে গড়ে ১০ হাজারের মতো ফোন এসেছে। যেটি সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি কলের রের্কড। এইভাবে প্রতিদিনই কলের সংখ্যা বাড়ছে।

জানা যায়, দুনীতি দমন কমিশনের তৃতীয় তলায় একটি রুমে হটলাইনের কার্যক্রম চলছে। সেখানে ৫ জন নিযুক্ত কর্মী দেশের যে কোন জায়গা থেকে দুর্নীতি সংক্রান্ত যে কোন কল গ্রহণ করার পর তাৎক্ষণিকভাবে সফটওয়্যার ডেটাবেইজে তথ্য লিপিবদ্ধ করছেন। অন্তত প্রতি মিনিটে একটি কল আসছে। প্রতিদিন ৯টা থেকে বিকাল ৫টায় পর্যন্ত চলে এই কার্যক্রম। কল সেন্টার কর্মীর জন্য ডেস্কটপ কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক প্রিন্টার, ভয়েস রেকর্ডার, নয়েজ রিডাকশন হেডসেট, সার্ভারের সাথে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক কানেকশন রয়েছে। অভিযোগকারীর যেসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান দেয়া সম্ভব হবে না, সেক্ষেত্রে কলসেন্টার কর্মী সরাসরি ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তার (এক বা একাধিক) সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। আর ওই ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হচ্ছে উপ-পরিচালক কিংবা পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা। অভিযোগ কেন্দ্র থেকে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সেগুলো দুদকের সেলে পাঠানো হয়। সেখানে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসছে ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়ে। এছাড়াও ভূমি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ, কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা), পল্লী বিদ্যুৎ, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, মাদকদ্রব্য, নারী নির্যাতন, পাসপোর্ট অফিস, রেলওয়ে, ঘুষ লেনদেন, মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেয়া, হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলা ও অনুপস্থিতি, নির্বাচন কমিশন প্রভৃতি। সবগুলো গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে দুদক। তবে সবগুলো আমলে নিতে পারছে না কমিশন। সম্পাদনা : গিয়াস উদ্দিন আহমেদ