মঙ্গলবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৭


যুদ্ধ নয়, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হবে কুটনৈতিক উপায়ে : তথ্যমন্ত্রী


আমাদের অর্থনীতি :
19.09.2017

জাফর আহমদ: তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুকে পুঁজি করে কেউ সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে, কেউ যুদ্ধের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। যুদ্ধ নয়, সরকার কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্বাসী। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহার প্রমুখ কর্মকর্ত উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকারের দুর্বল কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই রোহিঙ্গা সমস্যা শোচনীয়, ত্রাণ দিতে পারছে না সরকার। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার কথা শুনে মনে হয় এই মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্ব এবং জাতিসংঘ যে ব্যাপক তৎপরতায় কাজ করছে, তা তিনি দেখতে পারছেন না বা দেখতে চাচ্ছেন না। বরং জঙ্গি দমন আন্দোলনকে দুর্বল করার জন্য রোহিঙ্গা সমস্যা ব্যবহার করাই তার চক্রান্ত। তাতে এটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, কোনো সমাধান তার কাম্য নয়, বরং রোহিঙ্গা সমস্যাকে কেন্দ্র করে সরকারকে ঘায়েল করার এক চক্রান্তের জাল বোনার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন খালেদা জিয়া। সাম্প্রদায়িকতার জিগির তুলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ খুঁজছেন তিনি।

মিয়ানমার রোহিঙ্গার নিধন করছে, তাদের চাল কেন আমদানি করা হচ্ছে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাহাড়ে সমস্যার কারণে বাংলাদেশের অনেক মানুষ ভারতে ছিল। তখনও ভারতের সাথে বাংলাদেশের সব ধরনের সম্পর্ক ছিল। তাহলে মিয়ানমারের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলে সমস্যায় কোথায়?

মিয়ানমার আমাদের প্রতিবেশী। প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ সমস্যার ফলে উদ্ভূত উদ্বাস্তু সমস্যাকে কূটনৈতিক মুন্সিয়ানার সঙ্গে মোকাবেলা করতে হচ্ছে আমাদের। মানবিক সঙ্কটকে পুঁজি করে সাম্প্রদায়িক জিগির তোলা, ঘোলা জলে মাছ শিকারের ষড়যন্ত্রের জাল বোনা এবং দলীয় ও পারিবারিক ফায়দা লোটার অপরাজনীতিও মোকাবেলা করতে হবে- হাসানুল হক ইনু। যারা এ অপরাজনীতি করছেন তারা রোহিঙ্গাদের শত্রু, দেশের শত্রু, মানবতার শত্রু।

 

রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরকারের মানবিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে আমরা যে বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন, গণহত্যা তদন্তে জাতিসংঘ কমিটি গঠন করা, অব্যাহত সংলাপ, সকল আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আরও সক্রিয় করা।