বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবর ২০১৭


জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সাথে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে


আমাদের অর্থনীতি :
12.10.2017

শাকিল আহমেদ : দেশ উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন হচ্ছে। ধূমপান, এ্যালকোহলসহ নানা ধরনের নেশা সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে। মাছ-মাংসের তুলনায় শাক-সবজি, ফল ইত্যাদি খাবারের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন আনোয়র খান মর্ডান কলেজ ও হাসপাতালের রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের প্রধান ও অধ্যাপক ডা. মো. এহতেশামুল হক। গতকাল মোহাম্মদপুর সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্দ্যোগে সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার প্রধান অতিথি ছিলেন উত্তর সিটির ২৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম রতন। ডা. এহতেশামুল হক বলেন, বিবাহিত মেয়েদের তুলনায় অবিবাহিত মেয়েদেরই স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে। শতকরা ৯৯ ভাগ মেয়েদের ও ১ ভাগ ছেলেদের এই ক্যান্সারে ঝুঁকি থাকে। বর্তমানে মেয়েদের দেরিতে বিয়ে হওয়ার ফলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। যাদের  মাসিক নির্ধারিত সময়ের আগে ও পরে শুরু হয় তাদেরও  ক্যান্সারের অশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। যদি ৩০ বছরের আগে  মেয়েরা বাচ্চা নেয় তাহলে স্তন ক্যান্সারের হার অনেকটা কমবে বলে তিনি জানান। ঘরে বসে নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করে সমস্যা মনে হলে ডাক্তারের কাছে যেতে পরামর্শ দেন তিনি। শুরুতেই যদি কেউ ডাক্তারের কাছে আসে তাহলে দ্রুতই এর ঝুঁকি এড়ানো যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, কফি, সুগার, তেল, চর্বি খাবার যত কম খাওয়া যায়, তাহলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমবে। ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিদিন ব্যায়াম করা জরুরি। এ্যালকোহল ও ধূমপানের হার কমাতে পারলে স্তন ক্যান্সারের হারও অনেকটা কমে যাবে। স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে আরো বেশি উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। শুধু মেডিকেল কলেজ ও দুএকটি নির্ধারিত  স্থানে প্রোগাম না করে যদি বছরব্যাপী সারাদেশে এ ধরনের প্রোগাম  করা  যায়, তা হলে এর কার্যকরিতা আরো বাড়বে। তবে কেউ যদি কোন এলাকায় এ ধরনের প্রোগাম করতে চায় তা হলে আমরা যেতে ইচ্ছুক আছি।

গাইনি বিভাগের ডাঃ শামসীয়া শাভরিন শুচি বলেন, স্তন ক্যান্সারে ১ থেকে ৫টি স্তর রয়েছে। প্রথম স্তরে টিউমারটি ১ সেন্টিমিটার থেকে ২ সেন্টিমিটারে আসতে দুই এবং ২ সেন্টিমিটার থেকে ৩ সেন্টিমিটারে আসতে আরো দুই বছর মানে ৪ বছর সময় লাগে। যদি স্তর ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে  কেউ আসে তাহলে  চিকিৎসার খরচ ও ঝুঁকি কম থাকে। এর উপরে গেলে তখন স্তন কেটে ফেলতে হয়। শুচি বলেন, আজকে ১০টি ক্যাম্পে ১৫০ জন রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরার্মশ দেয়া হয়েছে। সম্পাদনা : গিয়াস উদ্দিন আহমেদ